• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইহুদি সন্ত্রাসবাদ ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি: নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা

প্রকাশিত: ২০:১১, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২০:১১, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইহুদি সন্ত্রাসবাদ ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি: নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা

ইহুদি সন্ত্রাসবাদ এখন ইসরাইলের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় একটি নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বাড়লেও ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এসব হামলা ‘ওপর মহল থেকে পরিচালিত নীতি’র অংশ বলে মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক কৌশলগত সতর্কবার্তায় তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস) বলেছে, ইহুদি সন্ত্রাসবাদ এখন আর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এটি ইসরাইল রাষ্ট্র ও এর গণতান্ত্রিক চরিত্রের জন্য স্বতন্ত্র কৌশলগত হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই ইঙ্গিত দেয় যে এটি ‘ওপর মহল থেকে পরিচালিত একটি নীতি’।

প্রতিবেদনের লেখকেরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, ‘ইসরাইলের শাসন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাই হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিহাস দেখিয়েছে, নিজেদের ভেতরের উগ্র শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ গণতন্ত্র টিকে থাকে না।’

ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে আইএনএসএস জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইহুদি সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয়তাবাদী অপরাধের ৬৬০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৩ শতাংশ বেশি। একই সময় ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় বেড়েছে ৫০ শতাংশ।

আইএনএসএসের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইহুদি সন্ত্রাসীদের হামলায় ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর তথ্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে প্রতিদিন গড়ে ছয়টি বসতি স্থাপনকারী বা সেটলার হামলার ঘটনা ঘটছে, যাতে মানুষ হতাহত হচ্ছে অথবা সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে।

এ ছাড়া পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের পশুপালন ও কৃষিভিত্তিক বসতি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলের বেসামরিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইসরায়েলের হাতে।

শুধু ফিলিস্তিনিরাই নয়, ইসরাইলি সেনা ও পুলিশের ওপরও হামলার ঘটনা বেড়েছে। সেটলারদের হাতে সেনা ও পুলিশের ওপর হামলা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৪৫টিতে দাঁড়িয়েছে। এসব হামলার মধ্যে সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এবং সামরিক যানবাহনের টায়ার কেটে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্ট্রাল কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, কিছু ব্রিগেডের নথিভুক্ত ঘটনার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ইহুদি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদনে ইহুদি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তির’ চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের আদর্শগতভাবে প্ররোচিত অপরাধের প্রায় ৯৪ শতাংশ তদন্ত কোনো অভিযোগপত্র ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আইএনএসএসের প্রতিবেদনে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথের বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই সহিংসতা ‘শূন্য থেকে তৈরি হচ্ছে না; বরং জনসমর্থনই একে উসকে দিচ্ছে’।

ইসরাইলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, তারা ‘প্রতিদিনই আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছেন’।

ইহুদি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসরাইল সরকারের নীতির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আইএনএসএস বলছে, পশ্চিম তীরে স্থাপন করা সেটলারদের ‘ফার্ম’ ও অবৈধ আউটপোস্টগুলো ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় বাজেট ও অবকাঠামোগত সহায়তাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে নেওয়া ‘ডিসাইসিভ প্ল্যান’ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ইহুদি সন্ত্রাসীদের দমন করাকে সরকারের নিজস্ব নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইএনএসএস মূলত ইহুদি সন্ত্রাসবাদকে ইসরাইলের নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও এতে উঠে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, পশ্চিম তীরে এসব হামলার কারণে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সব বসতিকেই অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারত্বকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে এবং তা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার কথা বলে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: