গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’, ট্রাম্পের নতুন চুক্তিতে বাড়ছে উত্তেজনার শঙ্কা
এখন থেকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিপক্ষ এ দ্বীপে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি বা বিনিয়োগ করতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না চীন-রাশিয়া। শুরু থেকেই গ্রিনল্যান্ডের দখল নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে মস্কো ও বেইজিং। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। ভবিষ্যতে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। এমনকি সংবেদনশীল কোনো খাতে বিনিয়োগও করতে পারবে না। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এসব দাবি করে ট্রাম্প বলেন, এ চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই, এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, গ্রিনল্যান্ড কি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে?
চুক্তি অনুযায়ী ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি এবং সেনা মোতায়েন করতে পারবে না। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীন এ বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ঐ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও থাকবে দেশ দুটির জন্য বিধিনিষেধ।
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী প্রবেশ, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার এবং আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার থাকার কথাও বলা হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হয়ে গেলেও এসব অধিকার বহাল থাকবে বলে দাবি করা হয়েছে। ঐ মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ক্ষমতা থাকবে। নতুন সামরিক স্থাপনা তৈরিতে গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না, এমন দাবিও করেন তিনি।
চীন ও রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ চুক্তি মেনে নেবে না বলেই মত বিশ্লেষকদের। গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে শুরু থেকে ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং ও মস্কো। নতুন এ ঘোষণার কারণে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া বা চীনের সামরিক উপস্থিতির পথ বন্ধ হবে, যা মেনে নেবে না দেশ দুটি। এছাড়া চীন নিজেকে আর্কটিকের অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক অংশীদার হিসেবেও দেখে।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: