বিধ্বংসী রূপ নিচ্ছে হারিকেন ‘পোলো’
প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি সঞ্চয় করে আরও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে হারিকেন ‘পোলো’। মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) একটি ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) হারিকেন পোলোর ভেতরে প্রবেশ করে। বিমানটি ঝড়ের ভেতরে ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ মাইল বা ২৮৫ কিলোমিটার বেগে বাতাসের গতি রেকর্ড করে। তবে ঝড়ের দমকা বাতাসের গতি ছিল আরও বেশি।
এনওএএর মায়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার হারিকেন পোলোর বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়টি দ্রুত শক্তিশালী হয়েছে। ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা পোলো উষ্ণ সমুদ্রের পানি থেকে বিপুল শক্তি সঞ্চয় করছে। এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বেশি থাকায় ঝড়টির শক্তি আরও বাড়ছে।
পোলো চলতি মৌসুমে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া তৃতীয় ক্যাটাগরি-৫ হারিকেন। ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনকে ঝড়ের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এনওএএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পোলো দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোর উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। তবে ঝড়টি সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার সময় মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এর ফলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ ৬ ইঞ্চি বা ১৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিন উপকূলীয় এলাকায় বড় ঢেউ ও বিপজ্জনক সামুদ্রিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনওএএ।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন পোলো সরাসরি মেক্সিকোর উপকূলে আঘাত হানবে না। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকান রাজ্যকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
‘হারিকেন হান্টার’ বিমানের সংগ্রহ করা তথ্য বলছে, পোলো আরও শক্তিশালী হতে পারে। আগামী কয়েক দিন এটি ক্যাটাগরি-৫ শক্তি ধরে রাখতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এনওএএর মতে, সমুদ্রের অত্যন্ত উষ্ণ পানি বর্তমানে ঝড়টিকে শক্তি জোগানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্য-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর আগে ২০১৫ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় একই এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল।
তবে এল নিনোর কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিমাপ এখনো রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হতে পারে এবং এ বছরের শেষ দিকে এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছাতে পারে।
সমুদ্রের পানি যত উষ্ণ হয়, হারিকেন তত বেশি শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। ফলে ঝড়ের বাতাসের গতিও বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই উষ্ণ সমুদ্রের পানির ওপর দিয়ে এগিয়ে চলা হারিকেন পোলো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক বায়ু দুর্বল হয়ে যেতে পারে বা দিক পরিবর্তন করতে পারে। এর ফলে উষ্ণ সমুদ্রের পানি পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরনেও পরিবর্তন ঘটতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: