সিরিয়ায় বাসে বন্দুক হামলায় নিহত ৭, ভয়াবহ বিস্ফোরণে বন্ধ ৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র
সিরিয়ায় একের পর এক সহিংসতা ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি বেসামরিক বাসে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানী দামেস্কের কাছে একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হোমস প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে মাসইয়াফ সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বাসটিতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। এতে সাতজন নিহত ও চারজন আহত হন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে।
হোমসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাসেম মুহাম্মদ শাবান জানান, বাসটিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিলেন। তারা কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। হামলার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের জন্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী দামেস্ক ও আশপাশের এলাকাও এসব ঘটনার বাইরে নয়।
এদিকে বাসে হামলার কিছুক্ষণ আগে দামেস্কের পূর্বাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর প্রভাবে দেইর আলি, আল-নাসিরিয়াহ ও তিশরিন; এই তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে সিরিয়ান ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি।
বিস্ফোরণের পর তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্রেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থল ঠান্ডা করার কাজ করছে।
বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এটি কারিগরি ত্রুটি, হামলা কিংবা নাশকতার কারণে ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের পর তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হবে। এরপর ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে দেইর আলি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হবে। তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সিরিয়ান ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি।
বুধবারের বিস্ফোরণটি ছয় সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ার গ্যাস নেটওয়ার্কে তৃতীয় বড় বিস্ফোরণ। আগের দুটি ঘটনাকে নাশকতা হিসেবে উল্লেখ করেছিল সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি। তবে সাম্প্রতিক কোনো বিস্ফোরণের দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।
এদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ায় মানুষের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়। ওই সময় সরকার ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। সরকারের দাবি, বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে এসব দাম বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: