ইথিওপিয়ায় যুদ্ধ তীব্র: শান্তিপূর্ণ সমাধানে এক টেবিলে ৪ দেশের শীর্ষ নেতা
ইথিওপিয়ায় নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন মিসর, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের নেতারা। একই সঙ্গে সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধের অবসানে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ উপকূলীয় দেশগুলোর হাতে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারা।
রবিবার (৪ অক্টোবর) মিসরের নিউ আলামেইন সিটিতে বৈঠকের পর চার দেশের নেতারা যৌথ ঘোষণা দেন। এতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকি, সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ এবং সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান অংশ নেন।
ইথিওপিয়ায় সরকারি বাহিনী ও টিগ্রের নেতৃত্বাধীন সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোটের মধ্যে লড়াই চলার সময়ই এই ঘোষণা এলো। জোটটির অন্যতম প্রধান শক্তি টিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ)। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী ও টিপিএলএফের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিল। ২০২২ সালের শান্তিচুক্তির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সম্প্রতি আবার সংঘাত শুরু হয়েছে।
রবিবার সরকারি ও মিত্র বাহিনী টিগ্রের আঞ্চলিক রাজধানী মেকেল্লে পুনর্দখল করে। এর আগে টিপিএলএফ জানিয়েছিল, তারা সাময়িকভাবে শহর ছেড়ে অন্য জায়গা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মেকেল্লে পুনর্দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইথিওপিয়ায় সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইথিওপিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া, সুদান ও মিসর সশস্ত্র জোটকে সহযোগিতা করছে। তবে তিন দেশই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরিত্রিয়ার তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইয়েমানে গেব্রেমেস্কেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়াকে আক্রমণের অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা করছে।
যৌথ ঘোষণায় সুদানের সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন জানানো হয়েছে এবং দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
লোহিত সাগর নিয়েও চার নেতা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান জানিয়েছেন। ঘোষণায় বলা হয়েছে, সাগরটির নিয়ন্ত্রণ উপকূলীয় দেশগুলোর হাতেই থাকা উচিত। স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়া লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক ও সার্বভৌম প্রবেশাধিকার এবং নৌ উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির টানাপোড়েনও বাড়ছে।
এ ছাড়া নীল নদের ওপর ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম নিয়েও মিসর ও সুদানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। যৌথ ঘোষণায় ভাটির দেশগুলোর ক্ষতি হয়—এমন ‘একতরফা পদক্ষেপ’ নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।
মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি এর আগে বলেছিলেন, সীমান্তপারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংঘাত নয়, সংলাপ প্রয়োজন। ইথিওপিয়ার চলমান সংঘাত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে চার দেশের এই যৌথ ঘোষণা আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: