• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় শেষ আশ্রয়ও এখন মরণফাঁদ, চরম ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

প্রকাশিত: ১৫:০২, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গাজায় শেষ আশ্রয়ও এখন মরণফাঁদ, চরম ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ভবনে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন গাজার হাজার হাজার পরিবার। বাস্তুচ্যুতদের শিবিরগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ফলে তাঁবু খাটানোর মতো কোনো খালি জায়গা না পেয়ে তারা এসব ফাটল ধরা পরিত্যক্ত ভবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই প্রতিনিয়ত রডের মড়মড় শব্দ এবং ভবনের হেলানো কাঠামোর ভয়ে রাতে জেগে থাকছেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকার আল-সাদা নামের একটি ৬ তলা ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জনই শিশু ছিল। ভবনটিতে যুদ্ধাহত ও বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

এই ঘটনার পর আরও বেশ কিছু স্থানে ছাদ ও সিঁড়ি ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাত ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৪টি ভবন ধসের উদ্ধার অভিযানে তাদের যেতে হয়েছে। 

সামাহ মুসলেহ নামে এক মা তার সাত সন্তানকে নিয়ে গাজা সিটির একটি অর্ধ-ভাঙা ভবনের নিচে বাস করছেন। উত্তর গাজার বেইত হানুন এলাকায় তাদের মূল বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তারা এখানে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। সামাহ জানান, শীতকাল আসলে পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়াবহ হবে তা নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে রয়েছেন। ''আমাদের মাথা গোঁজার অন্য কোনো জায়গা নেই। শুধু একটা তাঁবু টাঙানোর মতো জায়গা খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আশ্রয়শিবিরগুলোতে বিন্দুমাত্র জায়গা খালি নেই। এই ভবনটা যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। তাই আমি আমার সন্তানদের নিয়ে খুব ভয়ে আছি। এখনো তো শীতকাল আসেনি, তখন পরিস্থিতি আরও কতটা খারাপ হবে ভাবলেই শিউরে উঠছি।''

৪ অক্টোবর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে উদ্ধারকারী যানবাহন ও ভারী যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে এই বিপজ্জনক অবকাঠামো বা ধ্বংসস্তূপগুলো সরিয়ে নেওয়ার মতো সক্ষমতাও এখন সিভিল ডিফেন্সের নেই। গাজা সিটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ জানিয়েছেন, ''এখানে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ থাকলে, তা হলো এই বিপজ্জনক ভবনগুলো। এগুলো যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে, অথচ বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ এখানেই বাস করছেন। যদি সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ভেতরে আনার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে আমরা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ভবন মেরামত করতে পারব। এতে অনেক মানুষের জন্য আরও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।''

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী গাজার প্রায় ৮২% থেকে ৮৪% অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। আশ্রয়শিবিরে পর্যাপ্ত তাঁবুর অভাব এবং তীব্র মানবিক সংকট থাকার কারণে পরিবারগুলোর কাছে আর কোনো উপায় নেই। বর্তমানে গাজাজুড়ে ২,০০০ এরও বেশি ভবন ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এবং অন্য উপায় না পেয়ে মানুষ সেগুলোর ভেতরেই বাস করছে।

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন: