যুদ্ধ এখন আর শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না: নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যুদ্ধ এখন আর শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না। কোনো দেশের অর্থনীতিতে আঘাত করেও সেই দেশকে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব। তাই সাইবার অপরাধী ও সাইবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) উড়িশার ভুবনেশ্বরে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) ডেটা সেন্টার ও সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি।
তিনি বলেন, সাইবার হুমকির ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এসব মোকাবিলায় আধুনিক অবকাঠামো, শক্তিশালী কম্পিউটিং ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবল প্রয়োজন। পুরোনো ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও সরঞ্জাম দিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
মোদি বলেন, ভারতের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হচ্ছে, সাইবার অপরাধী ও সাইবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আরবিআইয়ের নতুন ডেটা সেন্টার ও সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট দেশের ব্যাংকিং অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরবিআইয়ের নতুন দুটি স্থাপনার উদ্বোধন ভারতের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। সরকারের লক্ষ্য হলো উন্নয়নের সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বড় শহরগুলোতে হাসপাতাল, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও ছোট শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এবং যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার এক্সপ্রেসওয়ে, মেডিকেল কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা ছোট শহর ও গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণ করেছে।
মোদি দাবি করেন, ২০১৪ সালের আগে ভারতের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন। অথচ দরিদ্র মানুষের কল্যাণের কথা বলে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ব্যাংক জাতীয়করণ করা হয়েছিল।
কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ‘ফোন ব্যাংকিং’-এর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলটির কয়েকজন নেতার ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফোনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংকঋণ দেওয়া হয়েছিল।
বিজেপি সরকারের আমলে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশের মানুষের আর্থিক সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ বেড়েছে বলেও দাবি করেন মোদি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৯ থেকে ৬০ কোটি জনধন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে দিল্লি থেকে এক টাকা পাঠানো হলে তার মাত্র ১৫ পয়সা মানুষের কাছে পৌঁছাত বলে ভারতের সাবেক এক প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি থেকে এক টাকা পাঠানো হলে উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে পুরো টাকাই পৌঁছায়।
মোদি বলেন, গত এক দশকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষকে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দশকে ব্যাংকিং সেবাকে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার দিকে নজর দেওয়া হবে।
উন্নত ভারত গড়ার ক্ষেত্রে পূর্বাঞ্চলকে বড় প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ঐতিহ্যগত খনিজ সম্পদের পাশাপাশি প্রযুক্তিও উড়িশার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
মোদি বলেন, ‘খনি থেকে মাইক্রোচিপ—উড়িশা তার ভবিষ্যতের নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত।’ ডেটা সেন্টার ও উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ রাজ্যটির তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: