সুদানের দারফুরে বাজারে সামরিক ড্রোন হামলা, নিহত শতাধিক
ছবি: আলজাজিরা
সুদানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে একটি জনাকীর্ণ বাজারে সামরিক ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১১৩ জন। চলতি সপ্তাহের সোমবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিয়ালায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাজারটিতে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) যোদ্ধাদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, সোমবারের হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত ও ১১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শহরটিতে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বুধবার এক সিগারেট বিক্রেতা জানান, হামলার দিন সন্ধ্যায় বাজারটিতে আরএসএফের কয়েক শ যোদ্ধা জড়ো হয়েছিলেন। রাত ৮টার দিকে একটি ড্রোন সেখানে আঘাত হানে। এতে বহু যোদ্ধার পাশাপাশি খাবার বিক্রি করা নারী বিক্রেতারাও নিহত হন।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, বিস্ফোরণটি ছিল ভয়াবহ। এতে বহু যোদ্ধা নিহত হন। তার ধারণা, নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারান। নিহতদের বেশির ভাগই চা ও খাবার বিক্রেতা নারী। প্রতিশোধের আশঙ্কায় দুই প্রত্যক্ষদর্শীই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
দারফুরে কর্মরত ত্রাণকর্মী মুবারক বেখেইত জানান, হামলার পরও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আশপাশের কয়েকটি বাড়ি থেকে কিছু মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য, চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে বেসামরিক মানুষকে। প্রাণহানি, স্বজন হারানো ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি তাদের প্রতিনিয়ত নতুন হামলার আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়াইরত স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেসের মুখপাত্র মোহাম্মদ দিদান ফেসবুকে দাবি করেন, নিয়ালার পশ্চিমে দুমায়া শিবিরে নির্ভুল ও লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় দেড় শতাধিক ‘মিলিশিয়া সদস্য’ নিহত হয়েছেন।
তবে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রাথমিকভাবে ২১ জন নিহত ও ৪০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, হতাহতদের তথ্য যাচাই করতে চলমান সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তাজনিত বাধার কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, বাজারে হামলার পর একটি বেসামরিক এলাকায় দ্বিতীয় হামলা হয়। নিয়ালায় সংস্থাটির সহায়তাপ্রাপ্ত একটি হাসপাতালে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৬টি মরদেহ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ২১ জনের পরনে ছিল বেসামরিক পোশাক। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেড় শতাধিক আহত ব্যক্তিকেও চিকিৎসা নিতে দেখেছেন সংস্থাটির কর্মীরা।
এমএসএফ হামলাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, বাজার, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো কোনোভাবেই হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ড্রোন হামলা বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত নিয়ালায় তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিতে আসার হার জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে। এতে ব্যাপক দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুতি দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: