আসছে অমাবস্যায় ইরানে হামলা? ইউরোপকে নিশানা করবে তেহরান?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানে বিপর্যয়কর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে প্রয়োজনে দেশটির বাকি অংশও ধ্বংস করে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে ৯ নভেম্বর অমাবস্যার অন্ধকারে সম্ভাব্য ওই হামলা হতে পারে বলে চাঞ্চল্যকর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, অমবস্যায় চাঁদের আলো থাকবে না, ফলে সে রাতের অন্ধকারকে হামলার জন্য অনুকূল পরিবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সার্বিক বাস্তবতায় ইরানে পুনরায় হামলা শুরুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড- সেন্টকম।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে এবং ভবিষ্যতে দেশটি যাতে আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও হামলা চালানো হবে কি না, শিগিগিরই সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন একটি চুক্তির প্রস্তাব তেহরান পর্যালোচনা করছে বলে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইরান যাই করুক তাদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হস্তগত করতে দেওয়া হবে না।
সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি সম্ভব হয়, তবে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু হয়তো আমাকে তা করতেও হতে পারে। খুব দ্রুতই আপনারা জানতে পারবেন।
ফক্স নউজ জানিয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সামরিক প্রস্তুতি এগোলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে তার জবাব ইউরোপ পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে নতুন করে হুঁশিয়ারি এসেছে ইরানের দিক থেকে। দেশটির সংসদ সদস্য হোসেইন আলি হাজি দেলিগানি ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যে কোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাবে এ যাত্রায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইউরোপের লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার জোর আশঙ্কা জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, সম্ভাব্য পাল্টা জবাব শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তা হবে ব্যাপক ও কৌশলগত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করে উপযুক্ত সময়ে এর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে ইউরোপের কোন কোন দেশ বা স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এ আইন প্রণেতা।
সব মিলিয়ে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি, অন্যদিকে তেহরানের ইউরোপ পর্যন্ত পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি, পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলছে। এ অবস্থায় আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক তৎপরতার দিকেই বিশেষ নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।
বিভি/এইচজে













মন্তব্য করুন: