• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

ভারী বৃষ্টিতে ডুবলো ১০ হাজার তাঁবু, গাজায় আরও তীব্র হচ্ছে মানবিক সংকট

প্রকাশিত: ২৩:৫৮, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২৩:৫৯, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ভারী বৃষ্টিতে ডুবলো ১০ হাজার তাঁবু, গাজায় আরও তীব্র হচ্ছে মানবিক সংকট

ভারী বৃষ্টিতে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার তাঁবু পানিতে ডুবে গেছে। এতে নতুন করে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে গাজায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে এখন গাজার প্রায় সব মানুষেরই জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া তাঁবু থেকে হাঁড়ি-পাতিল দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁবুতে পানি ঢুকে যাওয়ায় তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।

ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি জোনাথন ভেইচ বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং মানুষ চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও ইঞ্জিন অয়েলের মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে ইসরাইলের বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

গাজার মধ্যাঞ্চলীয় দেইর আল-বালাহ থেকে বিবিসিকে ভেইচ বলেন, ‘পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ। মানুষ একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে। আমরা যতটা সম্ভব সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময়ও মানুষ রাস্তায় আমাদের থামিয়ে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।’

হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি প্রশাসনের দাবি, বৃষ্টিতে প্রায় ৭০ হাজার তাঁবু পানিতে ডুবে গেছে। তাদের এক মুখপাত্র জানান, ফাটল ধরা দেয়াল ও ছাদ ধসে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

ভেইচ আরও জানান, জাতিসংঘের বাজেট কমে যাওয়ায় গাজায় ত্রিপল, প্লাস্টিকের চাদর ও তাঁবুর সরবরাহও কমেছে। ফলে কোথায় সহায়তা দেওয়া হবে, তা বেছে নিতে হচ্ছে। কিন্তু ভারী বৃষ্টির কারণে এখন প্রায় সবারই সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গত বছর শীতকালে গাজায় হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধের কারণে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অনেককে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকটও রয়েছে।

ত্রাণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

গত বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৫৮০ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের বিবেচনায় এ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য।

ইসরাইল বলছে, তারা হামাসকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এসব হামলায় প্রায়ই বেসামরিক মানুষও নিহত হচ্ছেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও থমকে আছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তির আওতায় ইসরাইলের হাতে আটক হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিনিময়ে গাজায় আটক অবশিষ্ট ৪৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসানের বিষয়ে সমঝোতা হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপত্যকাটিতে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৫৯৪ জন নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত