প্রাক্তনের প্রতি মানসিক টান কাটতে কত বছর লাগে? যা বলছে গবেষণা
একটি সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, মানুষটি চলে যায়—কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি আর অনুভূতিগুলো কি এত সহজে চলে যায়? ব্রেকআপের পর অনেকেই ভাবেন, কয়েক মাস বা এক-দুই বছরের মধ্যেই হয়তো প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি টান পুরোপুরি কেটে যাবে। কিন্তু গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মানসিক বন্ধন ভাঙতে সময় লাগে অনেক বেশি। কখনো কখনো সেই টান মুছে যেতে পেরিয়ে যেতে পারে কয়েক বছরও।
ব্রেকআপের পর প্রাক্তন সঙ্গীকে ভুলতে কত সময় লাগে—কয়েক মাস, এক বছর, নাকি আরও বেশি? এর নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাক্তনের প্রতি মানসিক সংযুক্তি বা আবেগের বন্ধন কাটিয়ে উঠতে মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক জিয়া ওয়াই. চং ও আর. ক্রিস ফ্রেলির গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে 'সোশ্যাল সাইকোলজিকাল অ্যান্ড পারসোনালিটি সাইন্স' জার্নালে। এতে দীর্ঘমেয়াদি প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি মানুষের মানসিক সংযুক্তি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় ৩২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। প্রত্যেকের অন্তত দুই বছর স্থায়ী একটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ভেঙে যায়। সাইকোলজি টুডেতে প্রকাশিত গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৩০ বছর। তাদের আগের সম্পর্ক গড়ে সাড়ে চার বছর স্থায়ী হয়েছিল। গবেষণার সময় বিচ্ছেদের পর গড়ে প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গিয়েছিল।
গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি মানসিক সংযুক্তির মাত্রার সঙ্গে সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষের প্রতি সংযুক্তির তুলনা করেন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, প্রাক্তনের প্রতি মানসিক সংযুক্তি অর্ধেক কমতে গড়ে ৪ দশমিক ১৮ বছর সময় লাগে। গবেষকদের পরিসংখ্যানগত মডেল অনুযায়ী, একই হারে সংযুক্তি কমতে থাকলে তা পুরোপুরি মিলিয়ে যেতে গড়ে প্রায় আট বছর সময় লাগতে পারে।
তবে গবেষকরা এটিকে সবার জন্য প্রযোজ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা হিসেবে দেখেননি। কারণ মানুষের সম্পর্ক, মানসিক গঠন ও বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা একেক রকম। কারও ক্ষেত্রে প্রাক্তনের প্রতি মানসিক টান দ্রুত কমে যেতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে বহু বছর পরও সেই অনুভূতির কিছুটা থেকে যেতে পারে।
এখানে ‘ভুলে যাওয়া’ বলতে প্রাক্তনের কথা আর কখনো মনে না পড়াকে বোঝানো হয়নি। গবেষণাটি মূলত প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি মানসিক সংযুক্তি কতটা সময় ধরে থাকে, সেটি নিয়ে। অর্থাৎ কারও কথা মনে পড়লেও তার প্রতি আগের মতো আবেগ, নির্ভরতা বা টান থাকা জরুরি নয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে মানসিক বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। উদ্বিগ্ন ধরনের অ্যাটাচমেন্ট থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রাক্তনের প্রতি মানসিক টান তুলনামূলক বেশি সময় ধরে থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, নতুন সম্পর্কে জড়ানো কিংবা ব্যক্তির লিঙ্গ প্রাক্তনের প্রতি মানসিক সংযুক্তি কত দ্রুত কমবে, তার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা যায়নি। সন্তান থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের শুরুতে প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক বন্ধন তুলনামূলক বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেটি দ্রুত কমার প্রবণতা দেখা গেছে।
অর্থাৎ ব্রেকআপের পরও যদি প্রাক্তনকে মনে পড়ে, সেটিকে অস্বাভাবিক কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই। গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত করে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মানসিক বন্ধন একদিনে শেষ হয় না; সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়। সেই সময়টা ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: