• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ঘুম হচ্ছে না? রাতে এসব খাবার খাচ্ছেন না তো!

প্রকাশিত: ০১:১৪, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ঘুম হচ্ছে না? রাতে এসব খাবার খাচ্ছেন না তো!

সারাদিনের ব্যস্ততার পর শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেকেরই রাতে সময়মতো ঘুম আসে না কিংবা ঘুমিয়ে পড়ার পর বারবার জেগে উঠতে হয়। এর পেছনে অনিয়মিত জীবনযাপন যেমন দায়ী, তেমনি রাতের খাবারের ধরনও দায়ী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে কিছু খাবার ও পানীয় গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা, অস্বস্তি কিংবা শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্রে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়
রাতে কফি, চা, এনার্জি ড্রিংক বা কোলা জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো। এসব পানীয়ে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাখতে পারে। এমনকি কারও ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ করলেও রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। কিছু চকলেটেও ক্যাফেইন থাকায় সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

অ্যালকোহল
অনেকে মনে করেন, অ্যালকোহল খেলে দ্রুত ঘুম চলে আসে। শুরুতে তন্দ্রাভাব তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে এটি ঘুমের স্বাভাবিক গভীরতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুমের মান খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার
রাতে অতিরিক্ত ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার খেলে অ্যাসিডিটি ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বুকজ্বালা বা পেটে অস্বস্তি তৈরি হয়ে ঘুম নষ্ট হতে পারে।

ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয়। রাতে এসব খাবার বেশি পরিমাণে খেলে পেট ভারী লাগা, অস্বস্তি কিংবা বদহজমের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

শোয়ার আগে ভারী খাবার
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও ঘুমের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে ভারী মাংস বা বেশি চর্বিযুক্ত খাবার হজমে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
মিষ্টি, কেক, বিস্কুটসহ অতিরিক্ত চিনি থাকা খাবার এবং বিভিন্ন অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে খাওয়াও ঘুমের মানে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব খাবার রক্তে শর্করার ওঠানামায় ভূমিকা রাখতে পারে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রাতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

সব ফল কি রাতে ক্ষতিকর?
রাতে ফল খেলেই ঘুমের সমস্যা হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং কিছু গবেষণায় কলা ও কিউইয়ের মতো ফল ঘুমের জন্য উপকারী হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে যাদের অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঘুমানোর আগে কমলালেবু, লেবু বা আঙুরের মতো অম্লীয় ফল অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

ভালো ঘুমের জন্য যা করবেন
ঘুমের মান ভালো রাখতে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না, জীবনযাপনেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। যেমন—

  • ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।
  • সন্ধ্যার পর চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কমিয়ে দিন।
  • রাতে হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার বেছে নিন।
  • প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।
  • ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ উজ্জ্বল স্ক্রিনের ব্যবহার কমান।

খাবারের সময় ও ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে রাতের বিশ্রাম আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে শুধু খাবার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত