জামায়াতকে একবার ভোট দেওয়ার আহ্বান আমীর শফিকুর রহমানের
জামায়াতে ইসলামীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমি শ্রমিকদের পূর্ণ মর্যাদা ও অধিকারের বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আইন সকলের জন্য সমান। আমরা ভাগাভাগি বা বিভাজন চাই না। সকল মতের ও সকল ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে চলতে পারবে। আমরা সরকার গঠন করলে চা শ্রমিকদের বেতন ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করব। আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই।”
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার নিজ জন্মস্থানে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ সাহেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি মৌলভীবাজার-১ ও মৌলভীবাজার-২ আসনের জামায়াত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
ডাঃ শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমরা ইনসাফের পক্ষে কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা আমানতকে কখনও ক্ষয়ন ক্ষতিগ্রস্ত করব না।”
তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে ন্যায় নেই, চলছে শুধু বেইনসাফ। গরিব মানুষ আদালতে গিয়ে বিচার পায় না, নিপীড়িত মানুষ তার অধিকার ফিরে পায় না। নির্যাতিত মা–বোনেরা বছরের পর বছর ঘুরেও বিচার পায় না। এই বেইনসাফের রাজনীতি আমরা আর চলতে দেব না। ইনশাআল্লাহ, সরকার গঠন করলে বেইনসাফ চিরতরে নির্মূল করা হবে।”
শফিকুর রহমান আরও বলেন, “সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা আজও অবহেলিত। আমরা নির্বাচিত হলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করব, ইনশাআল্লাহ।”
জামায়াতের আমির ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানো কোনো অপরাধ নয়। মামলা করতে এলে বলবেন, ‘শফিকুর রহমানের নামে মামলা করুন’। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার দিন শেষ।”
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে তিনি বলেন, “দেশ রক্ষার জন্য যারা জীবন বাজি রেখে কাজ করেন, তাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। আমরা সরকার গঠন করলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করব, যাতে তারা আরও সাহস ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”
নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মা–বোনদের ইজ্জতের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে নারীরা ঘরে, বাইরে, কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি জামায়াতের রাষ্ট্রদর্শনের অংশ।”
তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজের অধিকার চেয়েছিল। আমরা যুব সমাজকে সঠিক শিক্ষা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগতভাবে দক্ষ করে তোলব। এরপর তাদের হাতে যোগ্য ও সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র, এবং মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি খরচে পড়াশোনা করতে পারবে।”
আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের নির্বাচন। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ মানে আজাদি’, ‘না মানে গোলামি’ এই বক্তব্য মনে রেখে জনগণকে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফভিত্তিক সরকারের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সভা শেষে তিনি হেলিকপ্টারে সিলেটের উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: