সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই: প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। তবে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং নির্বাচনের একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত এ বিষয়ে তথ্য জানানো সম্ভব হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে সব কেন্দ্র নতুন করে রেকি করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের সক্ষমতা কতটুকু তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে যদি দেখা যায় কোনো স্থায়ী দেয়াল বা অবকাঠামো স্থাপন সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে বাঁশ বা বিকল্প উপায়ে আলাদা ও নিরাপদ সেপারেশন তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ততই কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রয়েছে।
প্রেস সচিব জানান, পুলিশের সদস্যদের জন্য বডিওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি বডিওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। এসব ক্যামেরা কীভাবে কাজ করে, তা শনিবারের বৈঠকে একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা এখন পুরোপুরি চালু রয়েছে। এই অ্যাপটি কেবল নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে বা ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দেখা দিলে, এই অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। এর ফলে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে। এর আগে দুর্গাপূজার সময় ৩২ হাজার মণ্ডপ এই অ্যাপের আওতায় আনা হয়েছিল, যা অত্যন্ত কার্যকর ও পরীক্ষিত বলে তিনি জানান।
শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের সময় সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন, যাদের মোতায়েন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যও মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, পুলিশের মোতায়েন কিছুটা দেরিতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পুলিশের ১ লাখ ৫৭ হাজার সদস্য আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে মোতায়েন শুরু করবেন। এছাড়া আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ জন সদস্যের মোতায়েন রবিবার থেকে শুরু হবে। র্যাবের মোতায়েন কার্যক্রমও শিগগিরই শুরু হবে।
প্রেস সচিব আরও জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার ৭০০টি বডিওর্ন ক্যামেরা ইনস্টলেশনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: