• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

জরুরি সেবার জন্য রোহিঙ্গাদের ১৪ লাখ ডলার সহায়তা দেবে জাপান

প্রকাশিত: ১৭:০৬, ২ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জরুরি সেবার জন্য রোহিঙ্গাদের ১৪ লাখ ডলার সহায়তা দেবে জাপান

কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারকে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দিতে জাপান সরকার ও ইউনিসেফ একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।  সোমবার (২ মার্চ) স্বাক্ষরিত চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

জানা যায়, এই চুক্তির আওতায় জাপান সরকারের দেওয়া ১৪ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তায় ৩৬ হাজারের বেশি শিশুসহ মোট ৫৬ হাজার ৫০০-এর অধিক শরণার্থী জরুরি সেবা পাবে। এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে- জরুরি শিক্ষা কার্যক্রম, পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) সেবা, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা।

রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি আশা প্রকাশ করেন, জাপান সরকারের এই সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী—উভয়ের বসবাসের পরিবেশ উন্নত করবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক তহবিল সংকোচনের এই সময়ে ইউনিসেফের সঙ্গে জাপানের নতুন চুক্তি ঘোষণা করতে পেরে আমি সন্তুষ্ট। এই সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষা, ওয়াশ, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসহ জরুরি সেবা দেওয়া হবে। এটি ইউনিসেফের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব এবং মানবিক নিরাপত্তার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, এই বিনিয়োগ শরণার্থীদের অভিঘাত-সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের মর্যাদা সুরক্ষায় সহায়তা করবে। প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানে জাপান অবিচল অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শরণার্থী শিবিরে প্রতিদিনই রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে—রোগব্যাধি, অপুষ্টি থেকে শুরু করে শিক্ষার বাইরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা পর্যন্ত। তারা তাদের শৈশব হারিয়ে ফেলছে।” তিনি আরও বলেন, “জাপান সরকারের এই সহায়তা শিশুদের সুস্থ ও শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে সহায়তা করবে, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করবে এবং পরিবারগুলোকে ছোট শিশুদের যত্নে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহে সহায়তা করবে। তহবিল সংকোচনের এই সময়ে, যখন একটি পুরো সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে, তখন এই অংশীদারত্ব শিশুদের বেঁচে থাকা, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

এই অংশীদারত্বের আওতায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা জোরদার করা হবে, যা কলেরা, ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পরিবারগুলোকে সাবান ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হবে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জেন্ডারসমতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এটি জাপান ও ইউনিসেফ উভয়েরই অভিন্ন অগ্রাধিকার।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত