পদ্মায় বাসডুবির ঘটনা তদন্তে দুই কমিটি
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনা তদন্তে সরকার দুটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। তিনি বলেন, বাসটি উদ্ধার করা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান চালু থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার গভীর রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে ডুবে যায়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ো পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ পর্যন্ত বাসটি নদী থেকে তোলা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাত ১টা পর্যন্ত মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজিব আহসান বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আরেকটি কমিটি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের যৌথ তৎপরতা রাতেও চলবে। পরদিন দিনের আলোয় আরও বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানো হবে। নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে, যা পরদিন প্রকাশ করা হতে পারে।
মরদেহ শনাক্তের পর জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন।
নিখোঁজদের স্বজনদের স্থানীয় ইউএনও কার্যালয় বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: