• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ১২০ ঘণ্টার সফর, বহরে সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ জন

প্রকাশিত: ২০:৩২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২১:৩২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ১২০ ঘণ্টার সফর, বহরে সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২০ ঘন্টার সফরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ২১ সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানই প্রধান উদ্দেশ্য। নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরবেন আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরেই বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে। ফলে ৯ দিনের সফর নেমে আসে ৫ দিনে। শুধু কি তাই? নজির স্থাপন করেছেন সফরসঙ্গী কমিয়ে। পিএমও প্রেস উইং, ব্যক্তিগত স্টাফ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কূটনীতিক ও সিকিউরিটির কর্মকর্তাসহ খুবই ছোট একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী জানান, রাষ্ট্র ও জনগণের অর্থ অপচয় রোধে সফরটি সংক্ষেপ করার পাশাপাশি সফর সঙ্গীও কমানো হয়েছে। জানাগেছে, পূর্বের সিলসিলা বাতিল করে এখন পর্যন্ত ২৪জন সফরসঙ্গী। তবে এই সংখ্যা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ জন হতে পারে। 

মাত্র ৫ দিনের সফর নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে ঢাকা এবং নিউইয়র্কে। বিস্ময়তো বটেই। কারণ ক্ষমতাচ্যুত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সফরে গিয়ে বনভোজনের মতো উৎসবে মেতে উঠতেন। বহরে যেতেন দেড় শতাধিক নেতা, কর্মচারি, ব্যবসায়ী ও পাইকপেয়াদা। এরবাইরে বোন-ভাগ্নে, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনী এবং আত্মীয়স্বজন। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সফরে গিয়ে গ্রান্ড হায়াত হোটেলেকে বাসাবাড়ি বানিয়ে ফেলতেন। সেখানে ১৭ বারের ৯ বারই পালন করেছেন জন্মদিন। এমনও সফর রয়েছে, টানা ২১ দিন নিউইয়র্কে অবস্থান করেন শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা। এখানে থেমে থাকেননি, ঢাকা থেকে স্পেশাল বিমান এনে প্রায় পুরো মাস  জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এতে এভিয়েশন ডিপার্টমেন্টকে কয়েক লাখ ডলার দিতে হয়েছিল পার্কিং ফি হিসেবেই।

বাংলাদেশের সরকার প্রধানদের ইতিহাসে এরআগে এতও সংক্ষিপ্ত সফর কোন সরকার প্রধান করেননি। তার মূল সফর ছিল ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সফর করার কথা ছিল সানফ্রানসিসকো। তাও বাতিল করেছেন। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছেন, ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে আসার পেছনে তার কৃচ্ছতাসাধনের বহিঃপ্রকাশ। 

বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির আসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আর এই অধিবেশনেই বাবা-মায়ের ধারাবাহিকতায় সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  ফলে বৈশ্বিক মঞ্চে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির উপস্থিতি তৈরি করছে ব্যতিক্রমী এক কূটনৈতিক মুহূর্ত।

এদিকে নাগরিক সংবর্ধনার কথা নিউইয়র্কের বাংলা কমিউনিটিতে আলোচনায় ছিল। জানাগেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ সংবর্ধনার উপলক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বরের জন্য ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেল বুকিংও দিয়েছিলেন। সংবর্ধনার প্রাক আলোচনা করতে তিনি ঢাকায়ও আসেন। কিন্তু এতে সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গিয়াস আহমেদকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের লাখ লাখ ডলার খরচ করে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা নিতে আগ্রহী নন। কিন্তু আমেরিকায় পৌঁছে সংবর্ধনা দেয়া কথা জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাক জিল্লুর রহমান জানান, সংবর্ধনা না হলেও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: