• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যার বিচার সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০০:০০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ০০:০০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
অপ্রতিম হত্যার বিচার সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারটা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা সহযোগিতা করব— আমাদের আইনানুগ যেসব প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে।’

মন্ত্রী রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

কুমিল্লায় সংঘটিত ১৩ বছর বয়সী কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মন্ত্রী বলেন, নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় সারাদেশের মানুষ মর্মাহত। গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, এ ঘটনায়  যারা জড়িত, তাদের দু’জনের বয়স সম্ভবত ১৮ বছরের বেশি, একজনের কম হতে পারে, এনআইডি চেক করা হচ্ছে। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গেছে, তারা অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের বড়।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে মোবাইল নিয়ে ঘটনা, সেই মোবাইলটা উদ্ধার করা হয়েছে প্রধানতম সন্দেহভাজন আসামির কাছ থেকে। ওর নাম তুহিন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে পুলিশের আমরা প্রশংসা করতে পারি যে, তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন সকল আসামিকে গ্রেফতার করতে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয়গুলো জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা সকল জঘন্য অপরাধের ঘটনা দ্রুততম সময়ে উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পেরেছি। আর যেগুলো সময়সাপেক্ষ, সেগুলো তদন্তের পরে দেখা যাবে যে, কতটুকু অগ্রগতি আমরা করতে পেরেছি।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।

সামাজিক অবক্ষয়কে অপরাধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় সব ক্ষেত্রে দেখা যায়— সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধগুলোর পেছনে মাদক, জুয়া কিংবা পর্নোগ্রাফির মতো অনুষঙ্গ জড়িত। এ থেকে উত্তরণে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমাদের যুবসমাজ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিকশিত হতে পারে। এ ছাড়া সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ককটেলবাজির ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ আসামিদের গ্রেফতার করে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি হাইকোর্ট ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের এরই মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লংমার্চ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের লংমার্চগুলো সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, বিগত আমলের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমান সরকার দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণে মনোযোগ দিয়েছে। দেশের শিল্পখাতে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে ইতোমধ্যে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুতই গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত শুক্রবারে তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদে নামাজ শেষে গোপন বৈঠকে বসলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ জনকে আটক করা হয়। আটকদের মোবাইল ফরেনসিক ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর যাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, সেই ১১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যানুসারে তারা 'ইত্তেহাদুল উম্মাহ' নামে একটি নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।

যেকোনো ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রিমান্ডে আনা হয়েছে এবং আইনানুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত