• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন, বেরিয়ে এলো নেপথ্যের কাহিনী

প্রকাশিত: ১৫:২৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৫:৩২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
অপ্রতিম হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন, বেরিয়ে এলো নেপথ্যের কাহিনী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতীমের ব্যবহৃত মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় তুহিন। সেখানে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতীম বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এরপর তুহিনের দেখানো মতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের চারপাশে পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলে যায়। পরে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সেখানে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতীম বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে ফাহাদ ও কামরুলও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। অপ্রতীমের মৃত্যু হলে তুহিন তার মুঠোফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

এর আগে, শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীম। পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের পর পুলিশ তার সন্ধানে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করতে গিয়ে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়।

পরে শনিবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।

অপ্রতীম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান।

তুহিন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার নুরে আলমের ছেলে। ফাহাদ (১৫) একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কামরুল হাসান কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিবাজারের হাতিগড়ার মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরেকজনের বাড়ি সদর দক্ষিণের এলাহীপুর এলাকায়। সে কুমিল্লার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী। তিনি মুঠোফোনের যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: