• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

জলবায়ু-ঝুঁকি মোকাবিলায় ৪ প্রস্তাব দিলেন তারেক রহমান

প্রকাশিত: ২১:১০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২১:১১, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জলবায়ু-ঝুঁকি মোকাবিলায় ৪ প্রস্তাব দিলেন তারেক রহমান

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় ও দ্বীপরাষ্ট্রসহ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সৃষ্ট বহুমাত্রিক ও অস্তিত্বগত হুমকির বিষয় জাতিসংঘে কথা কলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্যোগপূর্ণ ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় স্বল্প সামর্থ্য দিয়েই কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৫ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বর্তমান সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দফতরের কনফারেন্স রুম-৪-এ অনুষ্ঠিত ‘High-level Meeting to Address the Existential Threats Posed by Sea-Level Rise’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ, ন্যায়সংগত অর্থায়ন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং এর ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ৪টি প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হচ্ছে-দ্রুত ও ন্যায্যভাবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য যথাযথ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে, জলবায়ু প্রযুক্তি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অ্যাকসেস নিশ্চিত করতে হবে এবং সবশেষ জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। শতশত নদী আমাদের দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিলিত হয়। আমাদের দেশের মানুষ পানির খুব কাছাকাছি বসবাস করেন। আমাদের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের ৪ শতাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রে বিলীন হবে। এতে করে প্রায় এক কোটি মানুষ অনেকে ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বল্প সামর্থ্য দিয়েই এমন দুর্যোগপূর্ণ ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করেছি, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়িয়েছি। আমরা ৫ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পানি সংরক্ষণের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের আধুনিকায়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশ গ্রিন গ্রোথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এক্ষেত্রে আমরা সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্পায়ন এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ওপর জোর দিচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা সংকটপূর্ণ ইকোসিস্টেমকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।’

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত