• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ কেন্দ্র করে যা বললেন রাষ্ট্রদূত আইরিন খান

প্রকাশিত: ১০:৫২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১০:৫৩, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ কেন্দ্র করে যা বললেন রাষ্ট্রদূত আইরিন খান

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মানবিক সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি একটি কার্যকর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গাবিষয়ক বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে। একদিকে ১২ লাখের বেশি শরণার্থীকে মানবিক সহায়তা দিতে হবে, অন্যদিকে কঠিন সময়ে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে হবে। পাশাপাশি এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী বর্তমানে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী শিবিরে বসবাস করায় রোহিঙ্গাদের জীবন বিশেষ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের কারণে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনও ক্রমেই বাড়ছে।

আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হলেও তারা নিরাপত্তা, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পরই ফিরতে চান।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে হবে। এতে বাংলাদেশসহ আশ্রয়দাতা দেশ, আঞ্চলিক দেশ এবং মিয়ানমারকে যুক্ত করার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রয়েছে বা প্রক্রিয়াটিতে অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে—এমন দেশগুলোকেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারেন।

জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘের একার পক্ষে এ ধরনের সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। সদস্যরাষ্ট্রগুলোকেও নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোর আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরি, সহিংসতা বন্ধ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা দেওয়া, বিচার ও জবাবদিহি জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত