• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিদ্যুৎ নিয়ে বড় সুখবর, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

প্রকাশিত: ১৭:২১, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৭:২২, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিদ্যুৎ নিয়ে বড় সুখবর, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

ফাইল ছবি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে রূপপুরে দেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমানবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে যাওয়ার বড় ধরনের অগ্রগতি এটি, যাকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।

পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে পারমানবিক এই বিক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দু’জন কর্মকর্তা। 

‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ ধাপে প্রথমে চুল্লিতে খুব কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এ সময় চুল্লির বিভিন্ন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হবে।

একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়িয়ে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০-৪০ দিন লাগতে পারে। এই ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন চালু করা হবে। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। 

এর আগে বৃহস্পতিবার বিক্রিয় শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে আরও দুটি অনুমোদন নিতে হবে।

শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরও ধীরে ধীরে এর উৎপাদন বাড়ানো হবে। পূর্ন ক্ষমতায় উৎপাদন শুরুর পর কিছুদিন পরীক্ষা মূলক উৎপাদন চলবে। এরপর শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। এতে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে। 

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন একটি উৎস যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতারও নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
 
দুই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। যেখান থেকে প্রায় ২৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও পুরোদমে চলছে। দুই ইউনিটের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুতের লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিতে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। তেল, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় পারমানবিক বিদ্যুতের দামও কম পড়বে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: