• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বছরজুড়ে ৯২ দিবস পালনের নির্দেশনা, বরাদ্দ কত?

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বছরজুড়ে ৯২ দিবস পালনের নির্দেশনা, বরাদ্দ কত?

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন এবং পালনের বিষয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এতে বছরজুড়ে তিন শ্রেণিতে মোট ৯২টি দিবস পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দিবস উদযাপনের ধরন, সরকারি বরাদ্দ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ পরিপত্র জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব তানিয়া আফরোজ।

পরিপত্র অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে ১৮টি দিবস ও উৎসব পালন করা হবে। এ ছাড়া ঐতিহ্যগত, পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক ৩৯টি দিবস এবং বিশেষ খাতের প্রতীকী ৩৫টি দিবস পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঐতিহ্যগত ও সামাজিক গুরুত্বসম্পন্ন ৩৯টি দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত থাকবেন। অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

অন্যদিকে, বিশেষ খাতের প্রতীকী ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে উদযাপন বা পালন করতে হবে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে এসব দিবস পালনের জন্য উন্নয়ন খাত থেকে বিশেষ কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

নির্ধারিত তিন শ্রেণির বাইরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে প্রচলিত কিছু দিবসও পালন করা হয়। এর মধ্যে কিছু দিবস পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে পরিপত্রে। সরকারি সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এসব দিবস পালনে সরকারি সংস্থাগুলো সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলতে পারে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১ থেকে ৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর) পালনের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

দিবস পালনে যেসব নির্দেশনা
জাতীয় পর্যায়ের দিবসগুলো ছাড়া সাধারণভাবে অন্যান্য দিবস পালনের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

১. সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। রেডিও-টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। কর্মদিবসে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা এড়িয়ে চলতে হবে।

২. কোনো সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।

৩. সরকারি কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কাজে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।

৪. নগদ অর্থ বা উপকরণ ব্যয় প্রয়োজন হয় না—এমন কর্মসূচি ছুটির দিন কিংবা কার্যদিবসে আয়োজন করা যাবে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পতাকা উত্তোলন, ঘরোয়া আলোচনা সভা, রেডিও-টেলিভিশনে আলোচনা এবং পত্রিকায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মতো কর্মসূচি রয়েছে।

৫. দিবস বা সপ্তাহ পালনের জন্য রাজধানীর বাইরে কিংবা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।

৬. সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের স্বার্থে একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবসকে প্রাধান্য দিয়ে একই তারিখে একসঙ্গে পালন করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত