• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

যেভাবে ঘরে বসেই অনলাইনে বের করবেন জমির খতিয়ান

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
যেভাবে ঘরে বসেই অনলাইনে বের করবেন জমির খতিয়ান

জমির মালিকানা ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য জানতে এখন আর সব ক্ষেত্রে ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়। বাংলাদেশ সরকারের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে জমির অবস্থান, মৌজা এবং খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করে সহজেই রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সম্ভব। খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়।

তবে অনলাইনে খতিয়ানের তথ্য দেখা এবং সরকারি কাজে ব্যবহারের উপযোগী সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করা এক বিষয় নয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ধরনের কপির জন্য আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে জমির খতিয়ান বের করার নিয়ম

ঘরে বসে জমির খতিয়ান দেখতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

১. সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন। প্রয়োজনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও সংশ্লিষ্ট সেবায় যেতে পারেন।

২. জমির অবস্থান নির্বাচন করুন
জমিটি যে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বা থানার অন্তর্গত, সেগুলো নির্বাচন করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট মৌজা নির্বাচন করতে হবে। মৌজার নাম বা জে এল নম্বর জানা থাকলে সঠিক রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

৩. খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করুন
জমিটি কোন জরিপের অধীনে রেকর্ড করা হয়েছে, সে অনুযায়ী সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS), বিএস বা বিএআরএস (BS/BRS) খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করুন।

এরপর খতিয়ান নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন। খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে পোর্টালে বিকল্প অনুসন্ধান সুবিধা থাকলে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে খোঁজার চেষ্টা করুন।

৪. খতিয়ানের তথ্য যাচাই করুন
অনুসন্ধানের ফলাফলে মালিকের নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণসহ যেসব তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলো নিজের কাছে থাকা দলিল ও অন্যান্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই শুধু মালিকের নাম দেখে জমির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া উচিত নয়।

৫. প্রয়োজন অনুযায়ী কপির জন্য আবেদন করুন
খতিয়ানের তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুসারে অনলাইন কপি বা সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ, নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং কপি সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

খতিয়ান বের করতে যেসব তথ্য প্রয়োজন

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য সাধারণত নিচের তথ্যগুলো কাজে লাগে:

  •     বিভাগ ও জেলার নাম
  •     উপজেলা বা থানার নাম
  •     মৌজার নাম বা জে এল নম্বর
  •     খতিয়ানের ধরন
  •     খতিয়ান নম্বর, যদি জানা থাকে
  •     দাগ নম্বর বা জমির মালিকের নাম

মনে রাখতে হবে, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও মৌজার তথ্য এক নয়। একই মৌজায় একাধিক দাগ ও খতিয়ান থাকতে পারে। তাই অনুসন্ধানের সময় সঠিক তথ্য নির্বাচন করা জরুরি।

অনলাইনে খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগে?

খতিয়ান অনুসন্ধান এবং কপি সংগ্রহের খরচ আলাদা হতে পারে। সরকারি পোর্টালে রেকর্ড খোঁজার সুযোগ থাকলেও কপি সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রচলিত ফি-সংক্রান্ত তথ্যে অনলাইন খতিয়ানের কপির জন্য ১০০ টাকা এবং ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা আবেদন ফি ও ৪০ টাকা ডাক মাশুলের উল্লেখ রয়েছে। তবে ফি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি ও পরিশোধের নির্দেশনা যাচাই করে নিন।

অনলাইন কপি ও সার্টিফায়েড কপির পার্থক্য

অনলাইন কপি দিয়ে খতিয়ানের তথ্য দেখা ও সংরক্ষণ করা যায়। অন্যদিকে, সার্টিফায়েড কপি হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন করা অনুলিপি, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

জমি কেনাবেচা, মামলা বা অন্য কোনো সরকারি কাজে খতিয়ান জমা দিতে হলে কোন ধরনের কপি গ্রহণযোগ্য, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

অনলাইনে খতিয়ান না পাওয়া গেলে কী করবেন?

সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও খতিয়ান খুঁজে না পেলে কয়েকটি বিষয় যাচাই করুন।

  •     মৌজার নাম পরীক্ষা করুন: সঠিক মৌজা নির্বাচন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
  •     জরিপের ধরন পরিবর্তন করে দেখুন: জমিটি কোন জরিপের অধীনে রেকর্ড করা হয়েছে, তা যাচাই করুন।
  •     বিকল্প তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করুন: খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে পোর্টালে সুবিধাটি থাকলে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম          দিয়ে খুঁজুন।
  •     পুরোনো ও নতুন রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন: বিভিন্ন জরিপে জমির রেকর্ড পরিবর্তিত হতে পারে।
  •     ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন: অনলাইনে রেকর্ড না পাওয়া গেলে বা তথ্যে অমিল থাকলে প্রয়োজনীয় নথিসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি    অফিসে যোগাযোগ করুন।

এ ছাড়া চলমান জরিপের খসড়া খতিয়ান এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ান এক নয়। তাই খসড়া রেকর্ডকে চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

খতিয়ান দেখলেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত হয়?
না। খতিয়ান জমির রেকর্ডসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও শুধু খতিয়ানে নাম থাকলেই সব পরিস্থিতিতে জমির মালিকানা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় না। জমির দলিল, উত্তরাধিকার, নামজারি, দখল, সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড এবং প্রযোজ্য আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হতে পারে।

বিশেষ করে জমি কেনার আগে দলিলের ধারাবাহিকতা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও সীমানা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা আইনজীবীর সহায়তা নিন।

জালিয়াতি এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
জমির খতিয়ান সংগ্রহের সময় সরকারি সেবার নামে ভুয়া ওয়েবসাইট বা নকল নথির মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকুন।

  •     সরকারি ভূমি রেকর্ড পোর্টাল ব্যবহার করুন।
  •     অপরিচিত ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা অর্থ দেবেন না।
  •     ফি পরিশোধের আগে পোর্টালে প্রদর্শিত বিবরণ ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন।
  •     খতিয়ানের তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।
  •     প্রয়োজনে ভূমিসেবা সহায়তা নম্বর ১৬১২২-এ যোগাযোগ করুন।

সব মিলিয়ে, ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান বের করতে সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করে জমির অবস্থান, মৌজা ও খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করতে হবে। এরপর খতিয়ান নম্বর বা বিকল্প অনুসন্ধান সুবিধার মাধ্যমে রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়। আর জমি কেনাবেচা বা আনুষ্ঠানিক কাজে প্রয়োজন হলে উপযুক্ত কপি সংগ্রহের পাশাপাশি জমির অন্যান্য মালিকানাসংক্রান্ত নথিও যাচাই করা জরুরি।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত