• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক মারা গেছেন

প্রকাশিত: ০০:৪৭, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক মারা গেছেন

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আন্দোলনকারীদের হামলায় গুরুতর আহত তৌফিক শেখ (২১) মারা গেছেন। 

জানা গেছে, গতকাল সোমবার আনুমানিক আড়াইটার দিকে গাজীপুরের সদর উপজেলার পূর্ব মির্জাপুরে নোমান টেরি টাওয়েল লিমিটেডে এর সামনের সড়কে শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কারখানা থেকে বের হয়ে এসে আন্দোলন করতে থাকে। এসময় শ্রমিক পরিচয়ধারী অনেকে সহিংস হয়ে ওঠেন। কেউ কেউ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের গেট ও গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ভাঙার চেষ্টা করেন। এসময় তৌফিক সেটির ভিডিও ধারণ করতে গেলে শ্রমিক পরিচয়ধারী দুর্বৃত্তরা তাকে ব্যাপক মারধর করে। হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থান উন্নতি না হলে আইসিইউতে নেয়া হয়।

নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

নিহতের বড় ভাই হারুন বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। আগামীকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে দাফন করা হবে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর পড়ালেখা ছেড়ে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে আসেন তৌফিক। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি নেন। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত কয়েক দিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল। ওই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তৌফিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তৌফিক। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থান উন্নতি না হলে আইসিইউতে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সেখানেও আন্দোলন চলছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করেছিলেন। তবে পুলিশের ওই অভিযানে তৌফিক আহত হননি। তাকে শ্রমিকরাই মারধর করে আহত করেছেন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: