পুলিশ বা বিএনপির হামলায় নয়, আন্দোলনরত শ্রমিকদের মারধরে আহত হন তৌফক, মারা যান হাসপাতালে
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আন্দোলনকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তৌফিক শেখ (২১)। তার এই মৃত্যু ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে গুজব।
ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড প্রকাশ হয়। সেখানে তারা লিখেছে, "শ্রমিকদের আন্দোলনে বিএনপির হামলায় আহত স্কুলছাত্র তৌফিক আর নেই"। কেউ গুজব ছড়িয়ে লেখে, পুলিশের হামলা আহত তৌফিক মারা গেছেন।
কিন্তু জনপ্রিয় প্রমাণভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ফাস্ট চেকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিগুলো বিভ্রান্তিকর। গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের মারা গেছেন এটা সঠিক। তবে তিনি বিএনপি বা পুলিশের হামলায় আহত হননি।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশের অভিযানে তৌফিক আহত হননি। আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ভিডিও ধারণ করায় আন্দোলনরত শ্রমিকরাই তাকে মারধর করে আহত করেন। তাদের হামলাতে আহত হলে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে।
অর্থাৎ, শ্রমিকদের হামলায় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের মত্যুর ঘটনায় বিএনপি বা পুলিশকে দায়ী করে বিভ্রান্তিকর দাবি প্রচার করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার আনুমানিক আড়াইটার দিকে গাজীপুরের সদর উপজেলার পূর্ব মির্জাপুরে নোমান টেরি টাওয়েল লিমিটেডে এর সামনের সড়কে শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কারখানা থেকে বের হয়ে এসে আন্দোলন করতে থাকে। এসময় শ্রমিক পরিচয়ধারী অনেকে সহিংস হয়ে ওঠেন। কেউ কেউ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের গেট ও গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ভাঙার চেষ্টা করেন। এসময় তৌফিক সেটির ভিডিও ধারণ করতে গেলে শ্রমিক পরিচয়ধারী দুর্বৃত্তরা তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থান উন্নতি না হলে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই মারা যান তৌফিক।
নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে।
নিহতের বড় ভাই হারুন বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। আগামীকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে দাফন করা হবে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর পড়ালেখা ছেড়ে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে আসেন তৌফিক। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি নেন। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত কয়েক দিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল। ওই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তৌফিক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তৌফিক। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থান উন্নতি না হলে আইসিইউতে নেয়া হয়।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: