• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

হাসিনাকে ফেরাতে পাসপোর্ট ইস্যু হবে না, বিস্তারিত জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০:৩২, ৫ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২০:৩৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হাসিনাকে ফেরাতে পাসপোর্ট ইস্যু হবে না, বিস্তারিত জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শেখ হাসিনাকে সাধারণ কোনো যাত্রী বা বাণিজ্যিক ভ্রমণকারী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসরণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের পরিবর্তে প্রয়োজন হবে বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এ অবস্থায় তাকে দেশে ফেরানোর জন্য সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি পাসপোর্ট ইস্যুর মাধ্যমে নয়, বরং বিচারিক প্রক্রিয়া ও প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, একজন পলাতক অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়া, বিচারিক পরোয়ানা এবং দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তিই গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনাকে সাধারণ বাণিজ্যিক যাত্রীর মতো বিবেচনা করে পাসপোর্ট দিয়ে দেশে আসার সুযোগ দেয়ার প্রশ্নও নেই। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান হচ্ছে, তাকে ভারতের কাছ থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষকে হত্যার অভিযোগে পালিয়ে যাওয়া একজন ব্যক্তিকে স্বাভাবিক ভ্রমণকারীর পর্যায়ে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ তার হস্তান্তর চায় এবং ভারত সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে হস্তান্তরের বিষয়টি এগিয়ে নিতে চায়।

এদিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে সরকার আগ্রহী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরের পর চীন সফর করেছেন। ওই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত ও সামগ্রিক সহযোগিতার নতুন পর্যায়ে নেয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। পারস্পরিক সমৃদ্ধি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দু’দেশের মধ্যে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, দু’দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে দলীয় পর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ সফরে দু’দেশের রাজনৈতিক দল কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এই করিডোরকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের চলাচল বাড়বে। পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত সহজ হলে পুরো অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতে পারে।

তিনি বলেন, এই করিডোর বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে উদ্যোগটি কার্যকর করার আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চীনের আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয়, কৌশলগত এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গতিশীল হবে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত