• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সুখবর দিলেন শ্রমমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২১:০৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সুখবর দিলেন শ্রমমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরেই সম্পূর্ণ বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর প্রথম ফ্লাইট চালুর প্রত্যাশা করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে দুই থেকে তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কর্মীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হবে না। কর্মী পাঠানোর যাবতীয় ব্যয় বহন করবেন বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের প্রবাসী মিলনায়তনে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত এফডব্লিউসিএমএসে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ মাসেই বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করতে চায় সরকার। প্রথম ধাপে দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগের আওতা শুধু প্রাথমিক ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মালয়েশিয়ার অন্যান্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানো অব্যাহত থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় কর্মীদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কর্মীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকেই কর্মী পাঠানোর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য নির্ধারিত কিছু সার্ভিস চার্জও বাতিল করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে যেন নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাব না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এমওইউ স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের দেয়া কর্মীর চাহিদাপত্র অনলাইনে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ওই চাহিদাপত্রে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন থাকতে হবে। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তাও নিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে মন্ত্রণালয়ে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।

বিদেশে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও নতুন উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান মন্ত্রী। মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে আলাদা সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে কর্মীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষা পাবেন বলে আশা করছে সরকার।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি নিয়েও সতর্ক করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মেডিকেল পরীক্ষার নির্ধারিত ফি আট হাজার টাকা। এর বেশি অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসাকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। কয়েকজনের অনিয়মের কারণে যেন পুরো খাতের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবসায়িক লাভের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও নিয়মনীতি মেনে চলার বিষয়ে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত