• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত নাঃ আকবর আলি খান

প্রকাশিত: ১৭:২২, ২০ ডিসেম্বর ২০২১

আপডেট: ১৭:২৪, ২০ ডিসেম্বর ২০২১

ফন্ট সাইজ
ভারতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত নাঃ আকবর আলি খান

মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী ভারতের অবদান থাকলেও রাষ্ট্র হিসেবে তার প্রতি বাংলাদেশ ‘চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান।

বাংলাদেশের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকার কথাটি কিন্তু ১৯৭১ সালে শোনা না, এ কথাটা সম্প্রতি উঠেছে। আমি এর সোজা জবাব দিতে চাই। ভারতও জানে, বাংলাদেশও জানে যে চিরন্তন কৃতজ্ঞতাবোধ পৃথিবীর কোথাও নেই, এটা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব নয়। এটা জাতির সংগে জাতির, রাষ্ট্রের সংগে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব।’

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সংগে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব তখনই হবে যখন আমাদের স্বার্থ অভিন্ন হবে। যদি আমাদের স্বার্থের ক্ষেত্রে সংঘাত থাকে, তাহলে চিরন্তন কৃতজ্ঞতাবোধ কোনো দিনই হবে না।’

আকবর আলি খান বলেন, ‘১৯৭১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সংগে আমার দেখা হয়েছিলো, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সংগেও দেখা হয়েছিলো। তাঁরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, তোমরা স্বাধীনভাবে বাঁচো সেটাই আমরা চাই। তাঁরা কখনো এ কথা কল্পনা করেননি যে বাংলাদেশ কারও কাছে চিরপদানত হয়ে থাকবে। এটা কোনো দিনই সম্ভব নয়।’

তিন দশক ধরে বাংলাদেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে, যার পেছনে দুর্নীতি ও কালো টাকার প্রবাহ ছাড়াও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আকবর আলি খান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন রয়েছে তাতে মানুষে মানুষে বিভেদ কমার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে বিভেদ বেড়েই চলেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমাজতন্ত্রকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজতন্ত্রের যে স্বপ্ন রয়েছে, তা হলো মানুষে মানুষে বিভেদ কমানো। কিন্তু দেশে মানুষে মানুষে বিভেদ বেড়ে চলেছে। যেসব হিসাব আমাদের কাছে আছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৬৫ ভাগ দেশে বাংলাদেশের চেয়ে আয়ের বৈষম্য কম। বাংলাদেশে যে ধরনের বৈষম্য রয়েছে, এ ধরনের বৈষম্য মাত্র ৩৩ শতাংশ দেশে রয়েছে। এ বৈষম্য বেড়েছে গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে। এর একটা কারণ হলো দেশে প্রচণ্ড দুর্নীতি হচ্ছে। এই দুর্নীতির ফলে কালো টাকা এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আমাদের এখানে বৈষম্য বেড়েই চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে ছিলো। আজকে ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে রয়েছে, এটা অকল্পনীয় অর্জন। তবে দারিদ্র্য শুধু বাংলাদেশেই কমেনি, পৃথিবীর সব দেশেই দারিদ্র্য কমেছে।’

আন্তর্জাতিক সূচকের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ‘৪০ থেকে ৫০ শতাংশ’ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে বলে মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।

বৈষম্য কমাতে বিশেষ দৃষ্টি দিতে নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা নাহলে আবার দেখা যাবে ‘বিভিন্ন ধরনের গণ্ডগোল’। দেশের ‘শান্তি, অব্যাহত অগ্রগতি’ চাইলে এই সমস্যার প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার চার মূলনীতির মধ্যে জাতীয়তাবাদ ‘চূড়ান্তভাবে’ অর্জিত হয়েছে মন্তব্য করে আকবর আলি খান বলেন, ‘এটা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু চিন্তার কারণ হলো গণতন্ত্র নিয়ে, ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে। কারণ যে দেশে গণতন্ত্র নেই, সেদেশে ধর্ম নিরপেক্ষতা টেকসই ভিত্তিতে করা সম্ভব না।’

‘উদারনৈতিক গণতন্ত্র’ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা হলেও বাংলাদেশে তা ‘দুর্বল’ অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘উদারনৈতিক গণতন্ত্রে কেবল নির্বাচন হলেই চলবে না। একে অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। সেখানে সিভিল সোসাইটির ভূমিকা থাকতে হবে, সেখানে আইনের শাসন থাকতে হবে। এই ধরনের বিষয়গুলো বাংলাদেশ এখনও দুর্বল।’

গণতন্ত্র সুসংহত না হলে সুশাসন, মানুষের অধিকার, বৈদেশিক বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চনা তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিজিএস-এর চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাফর ইমাম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ ইব্রাহিম বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে সিজিএস-এর আয়োজনে বাংলাদেশের ৫০ বছর শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বিভি/এসডি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত