• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন: এক সপ্তাহে গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে শতাধিক

শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ১২:৩৪, ২৭ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন: এক সপ্তাহে গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে শতাধিক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও ঘুঘুমারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাঙনে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে বসতভিটা এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। তবে নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম (৪৫) বলেন, “নদীভাঙনে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কোথায় যাবো, কী করবো বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয় কাশেম আলী (৫৫) বলেন, “এক এক করে সব জমি-ঘর নদীতে চলে যাচ্ছে, আমরা এখন নিঃস্ব।”

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের পানির স্তর কমে গেলে ভাঙনের প্রবণতা বেড়ে যায়। নদীর চ্যানেল সরু হয়ে যাওয়া এবং পাড়ের মাটির গঠন দুর্বল থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি ভাঙনকবলিতদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

রৌমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমান আলী বলেন, ইতোমধ্যে ৫০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং আরও শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ-কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা International Organization for Migration–এর তথ্যমতে, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামে অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তরের শিকার হয়। এছাড়া, গত তিন বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে চর রাজিবপুরের কোদালকাটি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীশাসনের জন্য একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: