• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

একের পর এক বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত বিশ্ব, দায়ী কারা?

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ

মরুর দেশ সিরিয়া থেকে শুরু করে উন্নত দেশ ব্রিটেন—প্রকৃতির রুদ্ররূপে জলমগ্ন বিশ্ব। সিরিয়া ফোরাত নদীর উপচে পড়া পানিতে ভেসে গেছে রাস্তা। প্রাণ হারিয়েছে শিশুসহ অন্ত পাঁচজন। ঘূর্ণিঝড় 'বোয়েলো'র তাণ্ডব শেষে থমকে ধনী ও শিল্পোন্নত দেশ ইংল্যান্ডের জনজীবন। একই চিত্র ইউরোপের দেশ গ্রিস ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে। রেকর্ড বৃষ্টির ফলে নজিরবিহীন বন্যা আর ভূমিধসের মুখে পড়েছে উত্তর আমেরিকার দেশ চিলি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে ঘূর্ণিঝড় অর্নবের তান্ডব আর ভুটানে হিমবাহ ধস সৃষ্টি করেছে নতুন বন্যা আতঙ্ক। কেন বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের ঘনঘটা? কাকে দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা? 

পনির ওপর দিয়ে চলছে গাড়ি। দেখে মনে হতে পারে নামি-দামী কোনো ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ির টেস্ট ড্রাইভিং চলছে। কিন্তু না, বন্যার পানিতে রাস্তা ভেসে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। দৃশ্যটি সিরিয়ার রাক্কা দেইর-ই- জোর সড়কের। ঐতিহাসিক ফোরাত নদীর পানি উপচে পড়ে ঘানেম আলি এলাকার এই রাস্তাটি পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাময়িক সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পানি না কমায় প্লাবিত রাস্তা দিয়েই চলাচল করছে গাড়িগুলো। সিরিয়ায় সম্প্রতি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে ফোরাত নদী এবং এর অন্যতম প্রধান শাখা খাবুর নদীর পানি উপচে পড়ে এমন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। মরুর দেশে অস্বাভাবিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে শিশুসহ বেশ কয়েকজন। 

দরিদ্র মরুভূমির পাশাপাশি ভাসছে বিশ্বের অন্যতম ধনী ও শিল্পোন্নত দেশ ব্রিটেনের বেশকিছু এলাকা। গেল সপ্তাহে উত্তর ইংল্যান্ডের বেশ কিছু এলাকায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় স্টর্ম বোয়েলো। ঝড়ের তাণ্ডব থেমে গেলেও নামেনি বন্যার পানি। বিধ্বংসী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন এখনও স্পষ্ট। 

একটানা প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে ইউরোপের দেশ গ্রিসের মূল ভূখন্ড ও দ্বীপ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে নদীতে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকায় করে চলাচল করছে। বহু ঘরবাড়ি ও গাড়ি পানিতে ভেসে গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। 

ভারী বৃষ্টি আর ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো। ব্যনার পানিতে ভেসে আসা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও বাস সমুদ্র তীরে এস আটকা পড়েছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে নজিরবিহীন ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো এবং এর আশপাশের বেশকিছু এলাকা। পানির তোড়ে রাস্তায় থাকা অসংখ্য গাড়ি ভেসে গেছে, নিচে তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার।

ঘূর্নিঝড় আর বন্যায় নাজেহাল দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ ভারত ও ভুটান। গেল বৃহস্পতিবার ভুটানের গাসা জেলায় হিমবাহ ধসে পড়ায় সেখানে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে ভেসে গেছে মো ছু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের প্রায় সব স্থাপনা। তবে আগেই এলাকাটি খালি করে ফেলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভুটানে হিমবাহ ধসের একদিন আগে বুধবার প্রতিবেশী ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। তীব্র ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকায় তিন'শ মিলিমিটারের বেশি রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত হয়। প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়ে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঘূর্ণঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই ভুটানের হিমবাহ ধসের কারণে ভারতের বেশকিছু অঞ্চলে নতুন করে বন্যার সর্তকতা জারি করা হয়েছে।

দেশে দেশে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করছে জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। পরিবেশের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এল নিনো বা চরম আবহাওয়া চক্রের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে এই রেকর্ড ভাঙা অতিবৃষ্টি ও দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে বলে মত তাদের।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: