• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

একটি আলিঙ্গন, হাজারো বার্তা

কারাগার পেরিয়ে রাজপথে প্রত্যাবর্তন: তারেক-রিজভীর আলিঙ্গনে সংগ্রাম ও ঐক্যের স্বীকৃতি

শফিকুল ইসলাম বেবু

প্রকাশিত: ১৭:৫৪, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আপডেট: ১৭:৫৫, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ফন্ট সাইজ
কারাগার পেরিয়ে রাজপথে প্রত্যাবর্তন: তারেক-রিজভীর আলিঙ্গনে সংগ্রাম ও ঐক্যের স্বীকৃতি

বাংলাদেশের দমন-পীড়নের রাজনীতিতে কিছু মুহূর্ত ইতিহাসের ভাষা হয়ে ওঠে। সেখানে কোনো বিবৃতি প্রয়োজন হয় না, কোনো স্লোগানও নয়—একটি দৃশ্যই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ঘোষণা। তেমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশবাসী, যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রকাশ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জড়িয়ে ধরলেন দলটির আপসহীন সংগ্রামী নেতা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে।

এই আলিঙ্গন ছিলো নিছক আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়। এটি ছিলো ক্ষমতার দম্ভের বিপরীতে সংগ্রামের স্বীকৃতি, নির্যাতনের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সম্মাননা এবং আন্দোলনের ভেতরের অটুট ঐক্যের এক স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

দমন-পীড়নের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক নাম- রিজভী

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ—এই নামটি আজ আর কেবল একজন রাজনীতিকের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিণত হয়েছে একটি সংগ্রামের প্রতীকে। মামলা, গ্রেফতার, দীর্ঘ কারাবরণ, শারীরিক অসুস্থতা—সব প্রতিকূলতার মাঝেও যিনি কখনো কণ্ঠ নত করেননি।

যখন রাজপথে আন্দোলন নিষিদ্ধ, মিছিল ভাঙা ও নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার নিয়মে পরিণত হয়েছিল, তখন রিজভী আহমেদ ছিলেন দলের কণ্ঠস্বর, প্রতিবাদের সাহসী উচ্চারণ। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকা কিংবা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়াও তাকে ভাঙতে পারেনি। ক্ষমতার সামনে মাথা নত না করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নিপীড়িত রাজনীতির এক দৃঢ় মুখপাত্র।

তারেক রহমানের আলিঙ্গন- প্রতীকী অবস্থান

তারেক রহমানের এই আলিঙ্গন ছিলো কেবল ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য নয়; এটি ছিলো একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তের মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—দলের আন্দোলনের নেতৃত্ব কাদের হাতে এবং কারাই এই সংগ্রামের প্রকৃত সৈনিক।

এই আলিঙ্গন নীরবে যেন ঘোষণা দিয়েছে—

যারা রাজপথে লড়েছে, তারাই নেতৃত্বের মর্যাদা পাবে। যারা নির্যাতন সহ্য করেছে, তারাই আন্দোলনের মুখ। আপস নয়, প্রতিরোধই বিএনপির রাজনীতি।

নেতৃত্বে ঐক্যের স্পষ্ট বার্তা

দীর্ঘদিন ধরে সরকারপন্থী প্রচারণায় বিএনপির ভেতরে বিভাজনের যে গল্প শোনানো হচ্ছিলো, এই দৃশ্য সেই প্রচারণার মুখে শক্ত বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আলিঙ্গনের মাধ্যমে দলের ভেতরে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার বিষয়টি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

কুড়িগ্রামের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, ‘রিজভী আহমেদকে নিয়ে আমরা কুড়িগ্রামবাসী গর্ববোধ করি। কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি আমার জুনিয়র ছিলেন। সেই ছোট্ট শিশুটি আজ জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন—এটি আমাদের জন্য গর্বের।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আলিঙ্গন সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—বিএনপির নেতৃত্ব দুর্বল নয়, বরং আরও সংহত।’

আন্দোলনের নতুন ইঙ্গিত?

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে অনেকেই এই দৃশ্যকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এটি নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অসংখ্য কর্মী লিখেছেন— ‘সংগ্রাম বৃথা যায় না।’

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আলিঙ্গন মাঠের কর্মীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—নেতৃত্ব পাশে আছে, লড়াই একা নয়।

ক্ষমতার জন্য অস্বস্তিকর বার্তা

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই দৃশ্য ক্ষমতাসীন ও স্বৈরাচারী শক্তির জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ এটি দেখিয়ে দিয়েছে—দমন-পীড়ন আন্দোলন থামাতে পারেনি, বরং তা আরও সংহত করেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘এই আলিঙ্গন বলে দিয়েছে—কারাগার দিয়ে নেতৃত্ব ভাঙা যায় না।’

শেষ কথা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু ঘোষণা এসেছে, বহু বিবৃতি লেখা হয়েছে। কিন্তু কিছু মুহূর্ত শব্দ ছাড়াই ইতিহাস হয়ে যায়। তারেক রহমান ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সেই আলিঙ্গন তেমনই এক রাজনৈতিক দলিল—যেখানে লেখা আছে সংগ্রামের ইতিহাস, নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং আন্দোলনের অটুট বন্ধন। এটি শুধু একটি ছবি নয়—এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা, যা ক্ষমতার করিডোরেও অনুরণিত হচ্ছে।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: