• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ মাস ব‍্যবসায়ী নেতৃত্বহীন এফবিসিসিআই; কী প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে?

এ. কে.আজাদ 

প্রকাশিত: ১১:২৮, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১১:২৮, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দীর্ঘ ১৮ মাস ব‍্যবসায়ী নেতৃত্বহীন এফবিসিসিআই; কী প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে?

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই (FBCCI) বর্তমানে এক জটিল সময় পার করছে। চব্বিশের ০৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সংগঠনটিতে কোনো নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতৃত্ব নেই। গত ১৮ মাস ধরে প্রশাসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

এফবিসিসিআই দেশের প্রায় ৪ কোটি ব‍্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করে। সরকারের রাজস্বের প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা ব‍্যবসায়ীদের কাছ থেকে আসে। দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৯৫ শতাংশ ব‍েসরকারী খাতের  মাধ‍্যমে অর্জিত হয়। অথচ বর্তমানে ব‍্যবসায়ীরা কঠিন চ‍্যালেন্জের মধ‍্য দিয়ে সময় পার করছে।  

উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, বন্দরের অবকাঠামোগত সমস‍্যা, ব‍্যাংক খাতের সমস‍্যা, সরকারের উচ্চ ঋণের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়া। যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতি তে। ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশন হতে যাচ্ছে। 

যদিও বর্তমান সরকার গ্রাজুয়েশন ৩ বছর পিছানোর জন‍্য জাতিসংঘে আবেদন করেছে কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আরো অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু কোন কারণে না পিছালে দেশের রপ্তানি খাত কঠিন চ‍্যালেন্জের মধ‍্যে পড়বে। মাত্র ৮ মাস পরেই এলডিসি গ্রাজুয়েশন কিন্তু গ্রাজুয়েশন পরবর্তী চ‍্যালেন্জ মোকাবেলার জন‍্য খাত ভিত্তিক কোন পরিকল্পনা নাই। তাছাড়া বর্তমানে ৬ লক্ষ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপী।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩.৭১ শতাংশ কমেছে । ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগের হার কমে গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।  সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে এটি জিডিপির ২২.৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২৩.৯৬ শতাংশ 

দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত ব‍্যবসায়ী নেতৃত্ব না থাকায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে পড়েছে । এর ফলে নতুন দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার যখন আমদানি-রপ্তানি, শুল্ক বা বাজেট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, তখন এফবিসিসিআই-এর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরামর্শ অপরিহার্য থাকে। ব্যবসায়ী নেতৃত্ব না থাকায় সরকারের সঙ্গে এই লিয়াজোঁ বা পরামর্শ প্রক্রিয়া অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়েছে ।যার প্রভাব ব‍্যবসা, বাণিজ্য,বিনিয়োগ সহ  বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান সর্বত্র পড়ছে। 

বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী, এফবিসিসিআই -এর সাবেক সভাপতি আব্দুল আওয়াল মিন্টু, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম সকলেই সফল উদ‍্যোক্তা ও সাবেক ব‍্যবসায়ী নেতা। 

এফবিসিসিআইকে কার্যকর ও দেশের ব‍্যবসা খাত এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করার স্বার্থে দ্রুত অংশ গ্রহনমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে উনারা ভূমিকা রাখবেন এটা ব‍্যবসায়ীদের প্রাণের দাবী। এফবিসিসিআই-এর এই নেতৃত্বহীনতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক ধরণের স্থবিরতা তৈরি করেছে, যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা জরুরি।

লেখক: শিল্পোদ্যোক্তা ও নড়াইল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি -এর সদস্য

(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নিবে না।)

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত