• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

স্বৈরশাসন আর করোনার সামনে অকুতোভয় স্বাস্থ্যযোদ্ধা ডা. রফিকুল ইসলাম

লেখক: মীর রুহুল আমীন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ 

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:৪৭, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
স্বৈরশাসন আর করোনার সামনে অকুতোভয় স্বাস্থ্যযোদ্ধা ডা. রফিকুল ইসলাম

ডা. রফিকুল ইসলাম

বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের ১৭ বছরে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের এক বিশ্বস্ত নাম দলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর যখন ক্রসফায়ার গুম খুন শুরু করে তখন যুবদলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ড্যাব ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সারাদেশ থেকে নির্যাতনের স্বীকার অথবা অসুস্থ বিএনপির প্রতিটা নেতা-কর্মী ও তাদের পরিবারের কাছে 'বিএনপির ডাক্তার' হিসেবে আস্থার নাম হয়ে ওঠেন তিনি। 

রাজপথের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় ফ্যাসিস্ট রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নিজেকে উজার করে দেন ড. রফিক। ক্রসফায়ারে হত্যার শিকার জনির গুলিবিদ্ধ ছবিসহ যেসব ছবি বিশ্বব্যাপী মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে তার অধিকাংশ ছবিই কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাজপথ ও পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করার পুরস্কার হিসেবে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে আসীন হন।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে গাড়ির সাথে দুর্ঘটনায় পায়ের হাঁড় ভেঙে যায়।

খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় জেলে যাওয়ার পর তার চিকিৎসার সঠিক দাবিতে জনসমর্থন আদায়ে সরব ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। 

ধীরে ধীরে তার কার্যপরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ২০২০ সালের মার্চে কভিড মহামারিতে বাংলাদেশ আক্রান্ত হয়। এ সময় তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পিপিই বিতরণ করেন বিএনপির পক্ষ থেকে। 

চিকিৎসকদের ভুয়া মাস্ক ও পিপিই দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন ডা. রফিক।

অক্সিজেনের চরম স্বল্পতা দেখা দেয় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। তার ধারাবাহিকতায় অক্সিজেন সিলিন্ডার কনসান্ট্রেটর বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করেন নিজে উপস্থিত থেকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সব সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এম্বুলেন্স ব্যবস্থা করেন।

খোলা হয় বিএনপির পক্ষ থেকে টেলিমেডিসিন হেল্প লাইন। যেখানে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসকদের সাথে দেশবাসীর কথা বলার ব্যবস্থা করেন যেনো তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয় যায়।

করোনার সময় তার ডাইনামিক সব কার্যক্রমের জন্য ১০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে বিএনপির মহাসচিব সাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক থেকে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক করা হয়। পুরো করোনা জুড়েই ছিলো তার কর্মযজ্ঞ। 

এরপর করোনার প্রকোপ কিছুটা কমলেও প্রতি বছরই ডেঙ্গু দেখা দেয় মহামারী আকারে। যা নিয়ে সরকার ছিলো উদাসীন। ডেঙ্গু শুরু হওয়ার আগে থেকেই তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেন, লিফলেট বিতরণ করেন। 

এরপর ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ড. রফিক এই চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ফলাফল হয় ফ্যাসিস্ট সরকারের ডিবি পুলিশ নিজ চেম্বার থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত কারাগারেই নির্যাতিত হন তিনি।

৬ আগস্টের পর মুক্তি পেয়ে নতুন বাংলাদেশে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জুলাইয়ে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করে ছুটেছেন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। 

২০২৪ এ অসময়ের বন্যায় ভেসে যায় নোয়াখালী-ফেনী অঞ্চল। ওই ভয়াবহ বন্যায় মেডিকেল ক্যাম্প ও ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক অবদান রাখেন ডা. রফিকুল ইসলাম।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে ডেঙ্গুর মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দলের পক্ষ থেকে নিয়েছেন একের পর এক কর্মসূচি।

গাজায় মানবিক সংকটে বিএনপির পক্ষ থেকে গাজাবাসীদের জন্য ত্রাণ সহায়তা ফিলিস্তিন দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়। এ সময়ও ডা. রফিকুল ইসলামের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। 

লেখক: মীর ফজলে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ 

(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নিবে না।) 

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: