• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাবা-মেয়ের ভালোবাসার রসায়ন

মুহাম্মদ ইয়াহ্‌ইয়া আখতার

প্রকাশিত: ১১:৩৪, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বাবা-মেয়ের ভালোবাসার রসায়ন

ভালোবাসা এক পবিত্র অনুভূতি। ভালোবাসা আছে বলে পৃথিবী প্রাণময়। ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়। ভালোবাসার উষ্ণতায় শীতকালে শরীর মন উষ্ণ থাকে। এর পরশে গ্রীষ্মকালে হৃদয় মন শীতল হয়। ভালোবাসার সঞ্জীবনী শক্তি প্রাণীজগতকে কর্মমূখর করে রাখে। মহান স্রষ্টার সৃষ্টিগুলোর মধ্যে ভালোবাসার পবিত্র অনুভূতি সেরা সৃষ্টি। মানুষের মধ্যে সহজাতভাবে ভালোবাসা না থাকলে তারা সবাই হতেন রোবোটের মতো। ভালোবাসা এমন যাদুকরি বিদ্যা, যা শিখতে স্কুল-কলেজে যাওয়া লাগে না। কোনো কোচিং সেন্টারেও শেখানো হয় না ভালোবাসার ব্যাকরণ। 

লায়লি-মজনু, ইউসুফ-জুলেখা, শিরী-ফরহাদ, রজকিনী-চন্ডিদাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভালোবাসার ওপর ডিগ্রি করেননি। সহজাত এ গুণের চর্চা করেই এরা হয়েছেন বিশ্বখ্যাত ভালোবাসার আইকন। ভালোবাসার থেরাপি দিয়ে হতাশ প্রাণে আশা জাগানো যায়। 

ভবঘুরে ও দিকভ্রান্তকে জড়িয়ে রাখা যায় পরিবার ও সমাজে মায়া-মমতার সম্পর্কের উষ্ণতায়। ভালোবাসা এমনই এক সহজাত সঞ্জীবনী টনিক, পৃথিবীর কোনো দেশেই যার ঘাটতি নেই। এ কারণে গড়ে ওঠেনি ভালোবাসার ইপিজেড, বা এর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।  

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। পৃথিবীব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ উপমহাদেশে যখন ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হতো না, তখন এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কি ভালোবাসার কমতি ছিল? মোটেও না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তো ভালোবাসার টানে মাকে দেখতে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। এ কথা সত্য, ভালোবাসা অনুষ্ঠান করে প্রকাশ করার বিষয় নয়। তবে অনুষ্ঠান করায় দোষ নেই। বাংলাদেশে ১৯৯০-এর দশক থেকে ভালোবাসা দিবস উদযাপনের সূচনা ঘটে। প্রায় ৪০ বছর ধরে এ দিবস পালিত হলেও সারা দেশে এ অনুষ্ঠান একই মাত্রায় পালিত হয় না। 

গ্রামাঞ্চলে ভালোবাসা দিবসের পালন চোখে পড়ে না। বাংলাদেশে প্রধানত বড় শহরগুলোয় এ অনুষ্ঠানের চর্চা লক্ষ্যণীয়। বিশেষ করে স্বল্প বয়সের তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীদের মধ্যে এ দিবস উৎযাপন সীমায়িত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয়, বিশেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ দিবস পালনের প্রবণতা বেশি। অস্বচ্ছল এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে এ দিবসের উদযাপন চোখে পড়ে না। 

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে ভালোবাসা দিবস পালনের প্রবণতা বেশি। আবেগপ্রবণ শিক্ষার্থীগণ এ দিবস ঘিরে তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে ভাব বিনিময় করেন। উপহার ও পুষ্প বিনিময় করেন। ফলে এ দিবসে ফুলের বিক্রি বাড়ে। শহরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের সুসজ্জিত হয়ে বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। 

বাংলাদেশে যারা ভালোবাসা দিবস উৎযাপন করছেন, তারা ভালোবাসার পরিসরকে সীমায়িত করে অপরাধ করছেন। কারণ, ভালোবাসার পরিধি বহুল-প্রসারিত। যেমন স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, মা-ছেলে, বাবা-মেয়ে, ওস্তাদ-শিষ্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পীর-মুরিদ, প্রভৃতি সম্পর্কগুলো ভালোবাসার বন্ধনে জড়ানো। আবার, আদর্শ-অনুসারী, ফুলবাগান-মালী, বা শিল্পকর্ম ও শিল্পীর মধ্যে বিরাজিত সম্পর্কও ভালোবাসার সম্পর্ক। এভাবে সমাজের প্রতিটি সম্পর্কই ভালোবাসা-নির্ভর। অথচ এতসব সম্পর্ক বাদ দিয়ে ভালোবাসা দিবস উদযাপনকারীগণ কেবল তরুণ ও যুব বয়সীদের ভালোবাসা নিয়ে মাতামাতি করেন। 

দিগন্ত প্রসারিত ভালোবাসার অসংখ্য শাখা ও স্বরূপের ওপর আলোকপাত না করে ভালোবাসাকে একটিমাত্র এলাকায় কুক্ষিগত করা হয়। ভালোবাসা দিবস উদযাপনকারীদের উচিত তাদের উদযাপিত অনুষ্ঠানে ভালোবাসার বিভিন্ন স্বরূপের ওপর আলোকপাত করা। এর সুবাসকে সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়া। আমি বেশ কয়েকবার ভালোবাসা দিবসে এর বিভিন্ন স্বরূপের ওপর লিখেছি। একাধিকবার লিখেছি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালোবাসার সম্পর্কের ওপর। এ প্রবন্ধে বাবা ও মেয়ের ভালোবাসার রসায়নের ওপর কিছু লিখবো। কারণ, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সম্পর্কের ওপর কদাচিৎ আলোকপাত করা হয়।

     বাবা হিসেবে আমি আমার মেয়েদের ভালোবাসি। প্রবাসে থাকায় তাদের কাছে পাই না। জেন-জি যুগের ছেলেমেয়েরা বাবা-মার চেয়ে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অধিক ব্যস্ত থাকেন। তবে আমার মেয়েরা আমার খোঁজ নেন। ভিডিও কল দেন। আমার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু এতে আমার মন ভরে না। তারা কাছে থাকলে যতটা ভালো লাগতো, ততটা ভালো লাগে না। তারা বড় হয়েছেন। যোগ্য হয়েছেন। তাদেরকে ঘরে আটকে রাখবো কেন? তবে মেয়েদের কাছে না থাকার কষ্ট আমি ভুলে থাকতে পারি। কারণ, আমি একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। এদেরকে আমি একাডেমিক সন্তান বিবেচনা করি। সে হিসেবে আমার মেয়ের সংখ্যা অনেক হাজার। এদেরকে ভালোবেসে নিজ মেয়েদের ভালোবাসার তৃষ্ণা মেটাই। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও আমার মেয়ের বয়সী অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক হয়। ভালোবাসার তৃষ্ণার্ত মন নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললে, মনে হয় নিজ মেয়ের সঙ্গে কথা বলছি। 

     ভালোবাসা অনুধাবনে মেয়েদের সমঝ বেশি। সে জন্য তারা সহজে নকল ও আসল ভালোবাসার স্বরূপ বুঝতে পারেন। আমার সংস্পর্ষে আসা মেয়েরা আমার ভালোবাসা বুঝতে পারেন। সে জন্য তারা আমাকে বাবার মতো ভালোবাসেন। ঔরসজাত না হলে যে কেউ সন্তান হতে পারবেন না, এমনটা ভাবি না। এ কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থীর মধ্যে আমি নিজ মেয়েদের খুঁজে পাই। তাদের সাথে কথা বলে প্রবাসী মেয়েদের ভুলে থাকি। আবার শিক্ষার্থী না হলে মেয়ে হতে পারবেন না, এমনটা বিশ্বাস করি না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেয়ের মতো ভালোবাসার সম্পর্কের কথা একাধিকবার ভালোবাসা দিবসে লিখেছি। লেখাগুলো প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থী নন, এবার এমন মেয়ের ভালোবাসা নিয়ে লিখবো। 

     মেয়েটির নাম শিমু। তার সাথে প্রথম পরিচয় হয় ভিসি হিসেবে দ্বিতীয়বার চীন সফরের সময়। ২০২৪ সালের ৬ থেকে ১১ জুলাই ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর এসএমএ ফায়েজ-এর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী একাডেমিক দলের সঙ্গে এ সফরে শামিল হই। এ দলে আরও ছিলেন বড় ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দু’জন উপ-উপাচার্য, একজন ট্রেজারারসহ গণ্যমান্য অধ্যাপকগণ। দলটির উদ্দেশ্য ছিল চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাডেমিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করা। চীনা দূতাবাস থেকে দুজন কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে সফরজুড়ে আমাদের দেখভালের জন্য প্রেরণ করা হয়। শিমু তাদের একজন। অন্যজন ছিলেন নীলাম্বর। এরা দুজন ছিলেন সদালাপি এবং পেশাদার। ছয়দিনে পিতৃহারা শিমু যতবার আমার সাথে কথা বলেছেন, যতক্ষণ পাশে থেকেছেন, সঙ্গ পেয়েছেন, তার প্রতি আমার মায়াময় দরদী আচরণ লক্ষ্য করে তিনি আমার মধ্যে বাবার ছায়া অবলোকন করেছেন। আমি যতবার তার সাথে কথা বলেছি, মনে হয়েছে নিজ মেয়ের সাথে কথা বলছি। আমার সাথে তার আবেগী ভাষায় আবদার নিয়ে কথা বলা আমার ভালো লেগেছে। তার সাথে কথা বলে শান্তি পেয়েছি। প্রতিবার বাসে, ট্রেনে বা  বিমানে ওঠার সময় শিমু আমার যত্ন নিয়েছেন। দৃষ্টিনন্দন জায়গায় গেলে আমার মনোভাব পড়ে আমি বলার আগেই ছবি তুলে দিয়েছেন। অনেক ছবি তুলে দিয়েছেন।

     গোয়াংঝুতে এক বিকেলে আমরা শপিংয়ে যাই। শিমু আমাকে গিফট কিনে দিতে চেষ্টা করেও পারেননি। পরে দুঃখ প্রকাশ করায় বলেছি, মেয়েরা বাবাদের কাছ থেকে গিফট নেন। ঢাকায় আসার সময় গোয়াংঝু থেকে বিমানে ওঠার সময় প্রার্থনা করি যেন আমার আসনটা শিমুর আসনের পাশে পড়ে। এমনটা হলে ৩-৪ ঘন্টা গল্প করে তার জীবন উপন্যাসের কিছু পাতা পড়তে পারতাম। কোন ক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করা যায় তার ছক আঁকতাম। জানতে পারতাম তার পরিকল্পনা, স্বপ্ন, সাধনা ও সম্ভাবনা। এমনটি হয়নি। পরে জেনেছি একই রকম তিনিও ভেবেছিলেন। কাজ হয়নি। তার বিমানভ্রমনটা `বিরক্তিকর’ হয়েছিলো। আমি একটা উপহার সুকৌশলে দিতে পারলেও তিনি আমাকে উপহার না দিতে পারায় তার মুখটা মলিন ছিলো। সে জন্য বিমানে ওঠার আগে তিনি আমার অনুমতি নিয়ে একটি ছোট্ট মখমলের পুতুল ব্যাকপ্যাকে ঢুকিয়ে দিলে আমি বাধা দেইনি। গল্পের ছলে কৌশলে তার জন্ম তারিখ জেনে নিয়েছি। ‘জন্মদিনে তুমি কি উপহার পছন্দ করো?’ এমন জিজ্ঞাসার জবাবে শিমু বলেন, ‘গিফট তো দিয়েছেন। মেয়েকে  দোয়া করলেই হবে।‘ আমি বলি, আচ্ছা পারলে তোমার জন্মদিনে কবিতা লিখে উপহার দেবো। তিনি ছোট্ট জবান দেন। ‘আচ্ছা’। 

     জন্ম তারিখ মনে রেখে ৮ লাইনের কবিতা লিখে শিমুর ছবির নীচে পেস্ট করে এমনভাবে তাকে কুরিয়ারে পাঠাই যেন জন্মদিনেই তা তার হাতে পৌাছে। প্রতিশ্রুতি মনে রেখে কবিতা লিখে তাকে পাঠাবো এবং তা জন্মদিনেই তার হাতে পোঁছাবে এটা তিনি ভাবতে পারেননি। সে জন্য অপ্রত্যাশিত ব্যতিক্রমী উপহার পেয়ে তিনি খুশি হন এবং জন্মদিনে পাওয়া উপহারগুলোর মধ্যে একে শ্রেষ্ঠ উপহার বিবেচনা করে আমাকে ধন্যবাদ জানান। জীবনসঙ্গী খুঁজতে দেরি হচ্ছে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বিরক্ত হন না। বলেন, ‘আমার বাবা আমার জন্য সুযোগ্য পাত্র খুঁজে দিবেন।’ আমি বলি, ‘মা আপনি সুদর্শনা। আপনার পেছনে যুবকদের লম্বা লাইন থাকার কথা। কাউকেই কি আপনার মনে ধরছে না?’ না বাবা। আমি মনের মতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। সারা জীবনের ব্যাপার। যে কাউকে তো আমি পছন্দ করতে পারি না।‘ এভাবে বাপ-মেয়ের গল্প ও খুনসুটি চলে। ক্রমান্বয়ে বাড়ে বাবা-মেয়ের পবিত্র ভালোবাসার উষ্ণতা। মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ায় ঢাকার চিকিৎসায় বিরক্ত হয়ে তিনি মাকে সুস্থ করতে গোয়াংঝুর সান ইয়েটছেন ক্যান্সার হাতপাতালে যান। আমি তার মায়ের চিকিৎসার খবর রাখি। বুদ্ধি পরামর্শ দিই। তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে সাহস দেই। পরে মায়ের দেখভালে ভাইকে রেখে ঢাকায় এসে শিমু কাজে যোগ দেন। 

কিছুদিন পর সাংহাই থেকে লিখেন, ‘মেয়ে বাবার জন্য কি গিফট আনতে পারে?’ আমি এড়িয়ে যাই। ঢাকায় আসার পর বলেন, ‘আপনার জন্য গিফট্‌ এনেছিলাম। ঢাকায় এলে ভাবছিলাম পাঠাও কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেবো।’ আমি বলি, গিফট্‌ লাগবে না। আপনার হাসিমুখ দেখলেই খুশি হবো মা। ব্যস্ততার মধ্যেও আমার সাথে মাঝেমধ্যে শিমুর কথা হয়। কদাচিৎ দেখা হয়। বাবা-মেয়ের এক পবিত্র মিষ্টি-মধুর সম্পর্কে আমরা এভাবে জড়িয়ে থাকি। কেবল যুবক-যুবতীদের ভালোবাসায় সীমাবদ্ধ না থেকে ভালোবাসার এমন দিকগুলো কি আলোচিত হওয়া উচিত নয়? উচিত নয় কি রাজনৈতিক অঙ্গণে বিরাজিত প্রতিহিংসা স্তিমিত করতে ওই এলাকায় ভালোবাসাকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া? ভালোবাসা দিবস পালনকারীদের মধ্যে তেমন উদ্যোগ কই?   

লেখক: ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্‌ইয়া আখতার, উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
akhtermy@gmail.com

(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নিবে না।)

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: