মুখে গণতন্ত্র, কাজে নয়!
জাতিসংঘে ড. মোহাম্মদ ইউনুস, আসিফ নজরুল ও তৌহিদ হোসেন
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে(বিবিসি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল উল্লেখ করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি চুক্তি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনুস সব উপদেষ্টাকে অবহিত করতেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল যাদের প্রয়োজন মনে করা হতো, তাদের সঙ্গেই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকত। একই ধরনের মন্তব্য এর আগে ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ও ফরিদা আখতারও করেছেন, যেখানে তারা একটি ‘কিচেন কেবিনেট’-কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেন।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এগুলো জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং সরকারের সমষ্টিগত দায়বদ্ধতার অংশ। কিন্তু যদি সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশকে অন্ধকারে রাখা হয়, তাহলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।
অন্যদিকে, একই নেতৃত্বকে দেখা গেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করতে এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলতে। এমনকি একটি গণভোটের প্রচারণায়ও বলা হয়েছিল—সরকার ও বিরোধী দল মিলেমিশে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে—এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়।
কিন্তু বাস্তবে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির পরিবর্তে বাছাই করা কিছু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধতা দেখা যায়, তাহলে ঘোষিত নীতি ও কার্যক্রমের মধ্যে একটি স্পষ্ট অসঙ্গতি তৈরি হয়। এই বৈপরীত্যই এখন জনমনে প্রশ্ন তুলছে—গণতন্ত্রের ভাষ্য কি কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি তা বাস্তব প্রয়োগেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত?
রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি উপাদান কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এগুলো কার্যকর গণতন্ত্রের ভিত্তি। সেই জায়গা থেকেই এখন প্রয়োজন স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও আত্মসমালোচনা।
(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নিবে না।)



মন্তব্য করুন: