• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিক্ষা খাতে দিতে হবে ‘পোল ভল্ট জাম্প’: শিক্ষামন্ত্রী

কেফায়েত শাকিল

প্রকাশিত: ১৯:১১, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:২৯, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
শিক্ষা খাতে দিতে হবে ‘পোল ভল্ট জাম্প’: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন (সংগৃহীত)

সংসদে যেভাবে লাফিয়ে ঢুকেছেন মন্ত্রিত্ব পেয়ে কাজও শুরু করেছেন লাফের গতিতে। তিনি নিজেই বলেছেন, শিক্ষা খাতে শুধু ‘হাই জাম্প’ দিলেই হবে না, দিতে হবে ‘পোল ভল্ট জাম্প’। বলছি, নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের কথা।

নতুন মন্ত্রিসভার আলোচিত মন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম এহসানুল হক মিলন। তবে এখনকার কোনো কাজের জন্য নয়, তিনি আলোচিত আজ থেকে অন্তত ২০ বছর আগের তার কাজের জন্য। সেই সময় হেলিকপ্টার নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে পরীক্ষায় নকল নিয়ন্ত্রণের মধ্যদিয়ে আলোচনায় আসেন মিলন। শুধু কাজই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির মতো হাস্যকর মামলার আসামি হিসেবেও বেশ আলোচিত তিনি।

আ ন ম এহসানুল হক মিলনের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায়। তিনি শের ই বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারী বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক পাস করে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানকার নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মজীবনে ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার গবেষণাপত্রের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।

আ ন ম এহসানুল হক মিলন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে। তিনি ইতোপূর্বে ২ বার সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে এহসানুল হক মিলন সারা দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। প্রতিমন্ত্রীর দায়ীত্ব পালনকালে পরীক্ষায় নকলবিরোধী নানান তৎপরতার কারণে সারাদেশে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।

এহসানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে প্রথম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারপর ২০০১ সালে তিনি বিপুল ব্যবধানে হারিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীরকে। যার পরিণতি হিসেবে মহিউদ্দীন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে মামলার বোঝা চাপানো হয় মিলনের ঘাড়ে। হত্যা ও চেষ্টা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাইসহ অর্ধ শতাধিক মামলার আসামি করা হয় তাকে। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে অপদস্ত করতে দেওয়া হয় মহিলাদের ভেনিটি ব্যাগ চুরির মামলাও।

তবে সব চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন এহসানুল হক মিলন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে চাঁদপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নানান মহল থেকে দাবি ওঠে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে আবারও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হোক এহসানুল হক মিলন। জনদাবি আমলে নিয়ে তাকে এবার শিক্ষা মন্ত্রী করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার।

ভক্তদের প্রত্যাশা শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে আগের চেয়েও অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বিভি/কেএস/এআই

মন্তব্য করুন: