• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টকশো থেকে যেভাবে সংসদে পৌঁছালেন রুমিন ফারহানা

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:৩৫, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
টকশো থেকে যেভাবে সংসদে পৌঁছালেন রুমিন ফারহানা

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিতে এক আলোচিত নাম। যে দলের জন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন, সেই দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে হাঁস প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়ে এমপি হয়েছেন তিনি- এভাবে আলোচিত হয়েছেন এই নারী রাজনীতিক।

রুমিন ফারহানা ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির পক্ষে নারী সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। তবে এই পরিচয়ের চেয়ে তিনি বিএনপিপন্থি টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবে বেশি পরিচিত।

রুমিন ফারহানার জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। তার পিতা অলি আহাদ ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী ভাষা সৈনিক। রুমিন হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাজ্যের লিংকনস্ ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল’ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

রুমিন ফারহানার বাবা একজন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-এর প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে জীবনের দীর্ঘ ১৯ বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে তাকে। ছোটকাল থেকেই বাবাকে দেখেই রুমিন ফারহানা রাজনীতির শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

২০১২ সালে বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিএনপির রাজনৈতিক পদে আসেন তিনি। ২০১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালীন বাংলাভিশন টিভিতে একটি টকশোর মাধ্যমে প্রথম আলোচনায় আসেন রুমিন ফারহানা। ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদে পাঠানো হয় তাকে। সেই থেকে সংসদে, রাজপথে ও টকশোতে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তবে দলের নির্দেশে ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর সংসদ থেকে পদত্যাগও করেন রুমিন ফারহানা।

বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী সব আন্দোলনেই বিএনপির পক্ষে সরব থাকলেও এবার দলের মনোনয়ন পাননি রুমিন ফারহানা। ফলে তিনি অভিমান করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই কারণে তিনি দলের পদও হারান। বিএনপি জোটের প্রার্থী হেফাজত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে ৩৮ হাজার ভোটে হারিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ অর্থাৎ সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশের সংসদ সদস্য হন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

এমপি হওয়ার পর কাজ দিয়েই এলাকার মানুষের আস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রুমিন ফারহানা।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: