• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মার খেতে খেতে সংসদে ভিপি নুর

প্রকাশিত: ২০:৪২, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মার খেতে খেতে সংসদে ভিপি নুর

রাজপথের আন্দোলন, হামলার শিকার হওয়া, মামলার বোঝা, গ্রেফতার ও নির্যাতন- ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে এসবই যেন ভিপি নুরুল হক নূরের নিয়তি। তবে নিয়তি সব সময় এক রকম থাকে না। সাত বছরের জুলুম-নির্যাতন সয়ে অবশেষে সংসদ সদস্য হয়েছেন নুর। এর আগে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন একটি কথা ছড়িয়ে পড়েছিল—“আওয়ামী লীগ মারতে মারতে নুরকে ভিপি বানিয়ে দিল।” সেই কথার রেশ ধরে এখন কেউ কেউ বলছেন, “মারতে মারতেই নুরকে এমপি বানিয়ে দিল।” এমনকি মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।

রাজনীতিতে নুরুল হক নূরের উত্থান ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তার জন্ম পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নে। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া নুরের শিক্ষাজীবন শুরু পটুয়াখালীর চর বিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর গোলাম নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ২০১০ সালে মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকার উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ২০১২ সালে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন নুরুল হক নূর।

নুরের রাজনৈতিক জীবনের শুরু বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে। স্কুলজীবনে তিনি ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মুহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-মানব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক হন। তবে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সঙ্গে তার বিরোধের শুরু। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, যার যুগ্ম আহ্বায়ক হন নুর।

এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন নুরুল হক নূর। তবে ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন তিনি। ডাকসু কার্যালয়ে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।

২০২১ সালে নুর ও তার সঙ্গীরা তরুণদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন। প্রতিষ্ঠা করেন গণঅধিকার পরিষদ। এরপর থেকে জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতেও হামলা-মামলার মধ্যে দিন কাটে তার। তবু স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে পিছপা হননি নুর। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালেও তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর হাসিনাবিরোধী রাজনীতিকেরা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও জাতীয় পার্টিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত হন নুর। সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে বিএনপি জোটের সমর্থনে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল হক নূর। মন্ত্রী হওয়ার দৌড়েও তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতিবিদদের অন্যতম আলোচিত মুখ নুরুল হক নূর। তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, সংসদে গিয়ে তিনি নতুনভাবে দেশ গঠনের সারথি হবেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: