• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

একরাশ অভিযোগ তুলে দল ছাড়লেন এনসিপি নেতা

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ফন্ট সাইজ
একরাশ অভিযোগ তুলে দল ছাড়লেন এনসিপি নেতা

‘পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক আরিফুল ইসলাম তালুকদার। ২৮ নভেম্বর তিনি দলীয় আহ্বায়কের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, দল অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি; বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, সিদ্ধান্তহীনতা, অনিয়ম ও আচরণগত সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি ভূমিকা নেওয়ার পরও দল তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

“নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার স্বপ্ন কিছু হীনমন্যতা ও অদূরদর্শী আচরণের কারণে ভেস্তে গেছে”-এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

আরিফুল আরও অভিযোগ করেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে অর্থসম্পদের মালিক হয়ে সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়েছে। এতে আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে এবং জাতীয় ঐক্য নষ্ট হয়েছে। এছাড়া জুলাইয়ের আহতদের তালিকাকরণে অবিচার হয়েছে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো এখনও পুরোনো ফ্যাসিবাদী বলয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গণহত্যার বিচার না হওয়া এবং অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে যারা ‘মাফিয়া’ ভূমিকা নিয়েছেন, তাদের মাধ্যমেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। অথচ দল এসব নিয়ে কোনো পদক্ষেপ করছে না। বিপ্লবোত্তর সংকটের দায় দলের নেতৃত্বের উপর বর্তায়। অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন-তাদের স্বীকৃতি কুক্ষিগত করা হয়েছে। এছাড়া দলের ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ অনৈক্য দুই দেড় বছরে কোনো কার্যকর সাফল্য আনতে পারেনি।

আরিফুলের ভাষ্য, জুলাই বিপ্লবের সময় তিনি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষা ও ‘মাফিয়ার পলায়ন’ বিষয়ক কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি লিখেছেন, জুলাইকে পণ্য মনে করি না, জুলাইকে অনুভব করি। তিনি দাবি করেছেন, এনসিপি তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, জাতীয় ঐক্য নষ্ট করেছে এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রেখেছে। এছাড়া দল দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি উদাসীন এবং নিয়ন্ত্রণ এমন এক বলয়ের হাতে চলে গেছে, যারা জনগণের অনুভূতি বোঝে না বরং বিদ্বেষ লালন করে।

পদত্যাগপত্রের শেষাংশে আরিফুল বলেন, সব মিলিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় এই দলের সঙ্গে থাকার প্রয়োজন বোধ করছি না। তাই বুকভরা হতাশা নিয়ে পদত্যাগ করছি।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: