অপহরণ, নির্বাসন, প্রত্যাবর্তন, তারপর এমপি; সালাউদ্দিন আহমেদ এক রাজনৈতিক থ্রিলার
২০১৫ সালের ১০ মার্চ, রাত তখনো গভীর হয়নি। উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের একটি বাসার সামনে এলো ৬টি গাড়ি। গাড়ি থেকে হুড়মুড় করে নামলেন ২০-২৫ জন মানুষ। দারোয়ানকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করে তারা। দোতলায় উঠে একটি বাসায় দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ডিবি পরিচয়ধারীরা।
ফ্ল্যাটটি ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের একজন আত্মিয়ের। ওই সময় সেই বাসায় অবস্থান করছিলেন সালাউদ্দিন। ঘরে ঢুকে তাকে পেয়েই হাত ও চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ পরিচয়দাতারা।
সেই থেকে কোনো খবর মিলছিল না সালাউদ্দিন আহমেদের। ঘটনার প্রায় ২ মাস পর হঠাৎ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি হাসপাতাল থেকে ফোন আসে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের মোবাইল ফোনে। জানানো হয়, শিলং শহরে তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। সেই থেকে প্রায় ৯ বছর ভারতে কেটেছে সালাউদ্দিন আহমেদের। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরার সুযোগ পান সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও হেভিওয়েট নেতা হিসেবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অবশেষে বিএনপির মনোনয়নে হয়েছেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য। পেতে যাচ্ছেন মন্ত্রিত্বও।
সালাউদ্দিন আহমেদের জন্ম কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সিকদার পাড়া গ্রামে। ১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া সালাউদ্দিন প্রাথমিক পর্যায়ের পড়ালেখা শেষ করেন পেকুয়াতে। ১৯৭৭ সালে পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেকর্ড নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে ১৯৭৯ সালে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে। ১৯৮৪ সালে এলএলবি ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম পাস করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি হন সালাউদ্দিন। এরই মধ্যে ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। বগুড়ার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র সহকারী একান্ত সচিব নিযুক্ত হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বপালন করেন সালাউদ্দিন আহমেদ। কিছুদিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও ছিলেন তিনি। মাঝে সরকারি চাকরি করলেও ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। এরপর বিএনপির মনোনয়নে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন টানা তিনবার। এবার আবারও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন সালাউদ্দিন আহমেদ। পেতে যাচ্ছেন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পদও।
পতিত স্বৈরাচার সরকারে রোষাণলে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসা সালাউদ্দিন আহমেদ সরকারে থেকে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার ভক্তদের।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: