• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

যাকে পঙ্গু করার চেষ্টা, সেই তারেক রহমানের কাঁধেই বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২২:০২, ৯ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
যাকে পঙ্গু করার চেষ্টা, সেই তারেক রহমানের কাঁধেই বাংলাদেশ

এ এক নতুন বাংলাদেশের সুচনা, জনতা দেখছে নতুন এক বাংলাদেশ। এ যেন নতুন সরকারের নতুন নতুন দিগন্তের শুরু। জনতার স্বপ্ন পূরণ যাত্রা বিএনপির হাত ধরেই শুরু। দেশের মাটিতে পা রেখেই জানানো ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ বাস্তবায়নে প্রতিনিয়তই নিচ্ছেন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতো সাহসী পদক্ষেপ এর আগে বাংলাদেশে কোনো সরকার প্রধান নিতে পারেননি। শুধু তাই নয়; বিশ্বেও কিছু কিছু পদক্ষেপ নজির বিহিন। যাকে একদিন বিনা ওয়ারেন্টে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো, অনেক উঁচু থেকে ফেলে পঙ্গু করে দেওয়ার হীনচেষ্টা চালানো হয়েছিলো, যিনি এক প্রকার পঙ্গু অবস্থায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন, কে জানতো সেই তারেক রহমানের হাতেই রচিত হবে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায়। শপথ গ্রহণের প্রথম দিনই তিনি তাক লাগিয়ে দেন। ঘোষণা করেন বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারী প্লট নেবে না। এরপর জাতি দেখছে একে পর এক নজির বিহিন পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্ট মানেই ছিলো বাংলাদেশের মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ। যানজটে বসে থাকতে হতো ঘন্টার পর ঘণ্টা। অনেক আগেই বিভিন্ন সড়কে বন্ধ করে দেওয়া হত যান চলাচল। সড়কের দুই পাশে অবস্থা নিতেন পুলিশ সদস্যরা। মুহু মুহূ তাদের নির্দেশনা দিতেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিরামহীন বাশির ফুয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন পথচারীরা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার ১৫ মিনিট আগে সব স্থির করে দেওয়া হতো। ওই সড়কের যে যেখানে, যে অবস্থায় থাকতেন, তাকে সেখানেই স্থির হয়ে থাকতে হতো। প্রধানমন্ত্রী না যাওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো দিকেই যাতায়াত করতে পারতে না। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরের শব্দ ছাড়া দিনেই যেন রাতের মত শুনশান নিরবতা বিরাজ করতো। মাঝে মাঝে দুই একবার বাশির শব্দ শোনা যেত। প্রধানমন্ত্রী বহর যাওয়ার আগে তীব্রগতিতে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষণ করা হতো। এরপর যেত প্রধানমন্ত্রী গাড়ির বহর। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতে সড়কে যানজটের কারণে যাতে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ আর কষ্টে পড়তে না হয়, সেজন্য সারাবিশ্বে চলে আসা এই নিয়ম ভেঙ্গে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের জনগণের দুর্ভোগের কাছে নিজের নিরাপত্তাকে তুচ্ছ করে দেখছেন। দেশের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য প্রতিনিয়তই নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে সড়কে সেলফি তুলছেন অনেকে। যেখানে আগের প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময় সেলফি তোলা তো দূরের কথা, কোন গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী থাকতেন তাও আচ করা যেতো না। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন যান, তখন তিনি হাত নাড়িয়ে পথচারী ও বিভিন্ন যান বাহনে থাকা মানুষদের শুভেচ্ছা জানান। তারাও প্রধানমন্তীকে শুভেচ্ছা জানান।

শেখ মতলু নামের এক ব্যক্তি বলেন, সেদিন বাংলামটর দাঁড়িয়ে আছি। দেখি আমার পাশে থেকে হাসি মুখে গাড়ির ভেতর থেকে হাত নাড়াতে নাড়াতে প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছে। আমিও হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানালাম। এরচেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর কি হতে পারে! দেশে প্রধানমন্ত্রী যখন জনতার কাতারে চলে আসেন, জনগনের সঙ্গে যানজটে বসে থাকেন, এগুলো স্বপ্ন মনে হয়। কিন্তু স্বপ্ন নয়।

আরেক পথচারী বলেন, আগের যখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন পিয়ের জেমস ট্রুডোকে সাধারণের মাঝে ঘুরতে দেখতাম, তখন আফসোস হতো আমাদের প্রধামমন্ত্রী যদি এমন হতেন। আমরা যদি এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেতাম। এখন আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আমরা তার চেয়েও ভালো প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পীকারের পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। 

জুলাই বিপ্লবের ধারক হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন। বিএনপির সমর্থকরাই বেশি হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের শুরুতেই হাদী হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার নিশ্চিত হতে যাচ্ছে। ক্ষমতায় বসায় মাত্র ২২ দিনেই প্রধান আসামি আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। 

অন্তবর্তী সরকারের সময় এতো প্রশাসনিক কঠোরতার মধ্যেও হাদি হত্যার প্রধান আসামি ভারতে পালিয়ে যান। এরপর এই হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। নানা সময়ে হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নামেন অনেকে। কিন্তু হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্তদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরানোর তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই মনে করেন এই হত্যার আর বিচার হবে না। কিন্তু না; অতি অল্প সময়ে তাদের গ্রেপ্তার- আশাহত মানুষের প্রত্যাশা পূরণের ধাপ অনেকেটা এগিয়ে দিয়েছে সরকার।

বিজয়ের পরপরই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে বাসায় গিয়ে সৌজন্য স্বাক্ষাত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরাজিতদের বাসায় গিয়ে তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা দেশের ইতিহাসে বিরল। এরকম ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি।

দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এটিকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন অনেকে। কেউ কেউ বলছেন, এটি রাজনৈতিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আগামী দিনের রাজনীতি হবে সৌহাদ্য সম্প্রীতি ঐক্য সংহতির রাজনীতি। বিগত দিনের মত ধ্বংসের রাজনীতি আগামীতে যাতে না হয়, তারেক রহমান নিজ হাতে তার বীজ বপণ করলেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের ইফতারে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রকাশ যেন দেশের রাজনীতির আকাশে সুবাতাস বয়ে যাওয়ার বার্তা। 

নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের তিনমাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের সুচনা হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল-জলাশয় পুনঃখনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপনের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।  যা শুরু হতে যাচ্ছে ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক হলো বিএনপির ঐতিহ্য। এরই অংশ হিসেবে শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশসমুহের সকল রাষ্টীয় প্রতিনিধিদের অংশ নেয়া, এমনকি সকল অভিমান ও ক্ষোভ ভুলে স্পীকার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীও অংশ নিয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে।

জুলাই সনদের বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পীকার পদ ছেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মানে প্রশাসনসহ বিভিন্ন বাহিনীসমুহে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন। এমনকি অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়কার যোগ্যতম কর্মকর্তাদেরও প্রশাসনে রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজেরা যথা সময়ে অফিসে গিয়ে অধীনস্থদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। রমজানে ব্যয়বহুল ইফতার এড়ানো, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর, বিলাসবহুল গাড়ি কেনা বন্ধ করেন।

সাদা মাটা জীবন যাপনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই। বিশাল সরকারি গাড়ি বহর, বিদ্যুৎ বিলাসিতা পরিহার, পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য এসএসএফের নিরাপত্তা পরিহার, বিদ্যামান ট্রাফিক আইন মেনে রাস্তায় চলাচল করে সকলকে আইনের পরতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবানসহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো। গাড়ি বহরে ১৬-১৭ টি থেকে কমিয়ে এখন মাত্র ৪ টি করা হয়েছে।

এসবই যেন স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের সুচনা। অন্যরকম এক বাংলাদেশকে দেখছে বাংলাদেশের মানুষ। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চমকপ্রদসব নতুন নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন এক দিগন্তের পথে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এবার জনতার স্বপ্ন পূরণ যাত্রার শুরু হয়েছে বিএনপি সরকারের হাত ধরে।

সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এসব পদক্ষেপকে অনেকেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত