দিল্লির সঙ্গে আঁতাতেই আ. লীগ মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
দিল্লির সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ও বিতর্কিত একটি দল কীভাবে সারা দেশে মিছিল-মিটিং করার সুযোগ পাচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত জাতীয় সিরাত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শ্রমনীতি: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অনন্য আদর্শ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জুলাই সনদ গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে গণভোটে জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করা হলে তা জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে জনগণ ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। জুলাই সনদের ওয়াদা ভঙ্গ করে দেশকে আবার পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ একটি দল কীভাবে মিছিল-মিটিং করার সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা করা যাবে না।
সেমিনারে শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশ্বের দুঃখী, অনাহারী ও নিপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন। মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ তাঁর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করলে শ্রমক্ষেত্রে ন্যায়, সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, শ্রমিককে শুধু উৎপাদনের একটি উপকরণ হিসেবে দেখলে চলবে না। তার পরিবার, জীবনযাপন, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। একইভাবে শ্রমিককেও দায়িত্বশীলতা, সততা ও আমানতদারিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিককে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে শ্রেণিসংগ্রামের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের যে মতবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি। ইসলামী শ্রমনীতির লক্ষ্য মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করা নয়; বরং ন্যায় ও দায়িত্বের ভিত্তিতে উভয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
সেমিনারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ। এ ছাড়া জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: