• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক আন্দোলনে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: ইশরাক হোসেন

প্রকাশিত: ১৯:৫৯, ৫ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২০:০০, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
শ্রমিক আন্দোলনে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: ইশরাক হোসেন

শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রমিক আন্দোলনে মিশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের উদ্যোগে সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অভিভাবক। শ্রমিকদের তার ওপর আস্থা রাখা উচিত।

নিজের পরিচয় তুলে ধরে ইশরাক বলেন, আমার বাবা হিসেবে নয়, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার সন্তান হিসেবে আজ কথা বলব। আমার সবচেয়ে গর্বের পরিচয় হচ্ছে, আমি একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকা যে বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গোষ্ঠী বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ইশরাক বলেন, আন্দোলনের শুরুর দিকে আশুলিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের এক পলাতক নেতাকে একাধিকবার দেখা গেছে। অতীতে তাঁর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে রড দিয়ে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। 

ওই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতা সাব্বির আহমেদ আরিফও আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় করা মামলার আসামিদের মধ্যে ওই নেতাও ছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রলীগের এক নারী কর্মীকে একাই ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইশরাকের অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে শ্রমিকেরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। এ জন্য শ্রমিক ও নারী শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গত আট মাস মন্ত্রিসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, শ্রমিকদের প্রতি তারেক রহমানের আন্তরিকতা ও দরদ তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বুধবার রাতে বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুত শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। বিএনপি কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হলে বিরোধীদেরও রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা কঠিন হবে।

ইশরাক বলেন, আমরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলন করে খুনি হাসিনা এবং সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে টিকে ছিলাম। আগামী দিনেও আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে সুসংগঠিতভাবে সেটি করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা একাধিকবার ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবারই বিএনপির সুসংগঠিত নেতা-কর্মীরা দেশব্যাপী তা প্রতিহত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ছাত্রদলকে সুসংগঠিত থাকার পরামর্শ দেন।

গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলার চেষ্টা হলে তা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, বিরোধী দলকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তারা লংমার্চসহ যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টাকারীদের সমর্থন করা উচিত নয়।

শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শত শত নাম ও পদবিধারী নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, এসব ব্যক্তিকে সমর্থন বা পুরস্কৃত করার চেষ্টা করলে জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না।

সংসদে বিরোধী দলকে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে তিনি বলেছিলেন, বিরোধী দলের অবস্থান থেকেও তাদের পতন ঘটানো হবে। সংসদীয় ভাষা ব্যবহারের কারণে বক্তব্যটি নিয়ে অনেকে হাসাহাসি করলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ তারা বুঝতে পারেননি।

অতীতে যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় রাষ্ট্রের সঙ্গে বেইমানি ও গাদ্দারি করেছে, তাদের ভূমিকা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ইশরাক। বর্তমানে বিরোধী দলের আসনে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল থাকতে হলে সরকারি দলকেও থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার খুলনায় দেওয়া বক্তব্যে দলের নেতা-কর্মীদের পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সুসংগঠিত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, সারা দেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা গেলে তা কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামম মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক সরাফত আলী সাফু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কামরাঙ্গীরচরের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন মনির, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা নেসার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি এনাম মাহমুদসহ ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত