ঈদের আগে আল আকসা মসজিদ নিয়ে চরম ঘোষণা দিলো ইসরাইল
বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পবিত্র রমজান মাস। দুয়ারে কড়া নাড়ছে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু মুসলিম বিশ্বে যেন চলছে নীরব কান্না। কেননা রমজানজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে বইছে যুদ্ধের ঝড়। যা নিয়ে বাড়াবাড়ির চরম সীমায় পৌঁছেছে দখলদার ইসরাইল। এবার আল আকসা নিয়ে তারা কঠিন ঘোষণা দিয়েছে।
এবারের রমজানে আল আকসা মসজিদে ইতিক্বাফে বসতে দেয়নি ইসরাইল। এমনকি তারাবীর নামাজ হয়েছে তাও মসজিদের সামনের রাস্তায়। মুসলিমদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরাইলের সৈন্যরা। এরই মধ্যে ইহুদিবাদ রাষ্ট্রটি ঘোষণা দিয়েছে আসন্ন ঈদ এবং এর পরবর্তী সময়েও জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখবে।
মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা আল-আকসা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ইসলামিক ওয়াকফকে জানিয়ে দিয়েছে। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের অজুহাতে এই নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আল-আকসা মসজিদের প্রবেশাধিকার চরমভাবে সীমিত করা হয়েছে। প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে ভেতরে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পাণ্ডুলিপি বিভাগের একজন বাড়তি কর্মী নিয়োগের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইলি পুলিশ। উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনো অতিরিক্ত মুসলিম কর্মী ভেতরে প্রবেশ করে, তবে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সেখানে নিয়মিত অনুপ্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম কোনো রমজানে ফিলিস্তিনিরা আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারছেন না। পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের রাতেও শত শত পুলিশ মোতায়েন করে মুসল্লিদের মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ পুরনো শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন, যা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
ইতিমধ্যে আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, আল-আকসা মসজিদের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং এই অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ এবং দীর্ঘদিনের ‘স্ট্যাটাস কো’ বা স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: