পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারীদের সম্পর্কে যা বলেছেন মুহাম্মদ (সা.)
ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্নভাবে মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। কেউ বৃদ্ধ হওয়ার পরে মারা যায়, কেউ অল্প বয়সে। কারও মৃত্যু স্বাভাবিক হয়, কারও মৃত্যু অস্বাভাবিক। কারও তো এমন মৃত্যুও হয়, আপন মানুষ দাফন করার আগে শেষ দেখার সুযোগটুকুও পায় না।
এটা যে কতো কষ্টের, বেদনার; ভুক্তভোগী না হলে বোঝা যায় না। এদিকে বুধবার (২৫ মার্চ) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে যায়। এতে উদ্ধার অভিযান শেষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
তাই আসলে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। কার কীভাবে মৃত্যু হবে সেটা আল্লাহ তাআলা বাদে কেও জানেন না।
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং কেয়ামতের দিন তাদের পূর্ণমাত্রায় বিনিময় দেওয়া হবে। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, অবশ্যই সে ব্যক্তি সফলকাম হলো, কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়। (সুরা ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
এক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম মৃত্যু হলো শহীদি মৃত্যু। তাই সর্বাবস্থায় প্রতিটি মুমিনের একান্ত কামনা থাকে শহীদি মৃত্যু। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছে, তাদের তুমি মৃত মনে করো না, বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত। তাদের রিজক দেওয়া হয়।’ (সুরা ইমরান, আয়াত: ১৬৯)
অপরদিকে হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ (রা.) একবার সুরা ইমরানের এই আয়াত সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন, তাদের রুহসমূহ সবুজ পাখীর উদরে রক্ষিত থাকে, যা আরশের সঙ্গে ঝুলন্ত দীপাধারে বাস করে। জান্নাতের সর্বত্র তারা যেখানে চায় সেখানে বিচরণ করে। অবশেষে সে দীপাধারগুলোতে ফিরে আসে। একবার তাদের প্রভু তাদের দিকে পরিপূর্ণভাবে তাকালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কি কোনো আকাঙ্ক্ষা আছে?
জবাবে তারা বলল, আমাদের আর কি আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে, আমরা তো যেভাবে ইচ্ছা জান্নাতে ঘোরাফেরা করছি। আল্লাহ তা’য়ালা তাদের সঙ্গে এমন তিনবার করলেন। যখন তারা দেখলো জবাব না দিয়ে প্রশ্ন থেকে রেহাই পাচ্ছে না, তখন তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আকাঙ্ক্ষা হয় যদি আমাদের রূহুগুলোকে আমাদের দেহসমূহে ফিরিয়ে দিতেন আর পুনরায় আমরা আপনারই পথে নিহত হতে পারতাম। অতঃপর মহান আল্লাহ যখন দেখলেন, তাদের আর কোনো প্রয়োজনই নেই, তখন তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হলো (আর প্রশ্ন করা হলো না)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৭৭৯)
তবে শুধু আল্লাহ রাস্তায় নিহত হলেই নয়, আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে কিংবা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেলেও আছে শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, পাঁচ প্রকার মৃত ব্যক্তি শহীদ- মহামারিতে মৃত ব্যক্তি, পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং যে আল্লাহর পথে শহীদ হলো, সেই ব্যক্তি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৩৩-২৬৩৪)
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: