• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সন্তানের জন্য মায়ের ত্যাগ—জীবনের ঊর্ধ্বে ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত

মোহাম্মদ মহিউদ্দীন

প্রকাশিত: ১৭:০০, ২৬ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সন্তানের জন্য মায়ের ত্যাগ—জীবনের ঊর্ধ্বে ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে ফোনে কথা বলতে বলতেই নিজের জীবন তুচ্ছ করে সন্তানকে বাঁচিয়েছেন এক মা। বাসের জানালা দিয়ে মা ঠেলে বের করে দেওয়ায় আট বছর বয়সী শিশু আলিফ সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও, তার মা জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। 

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি যখন দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠছিল, ঠিক তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বেঁচে ফেরা শিশু আলিফ জানায়, সে তার মায়ের কোলে বসে ছিল। বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় তার মা দ্রুত তাকে জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরের দিকে ঠেলে দেন। আলিফ বলে, ‘বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছিল, মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়। আমি সাঁতার কেটে উপরে চলে আসি, কিন্তু আমার মাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না।’

 

গতকালের এই ঘটনাটি দেখুন—বাস যখন পানিতে ডুবে যাচ্ছিল, সেই ভয়াবহ মুহূর্তে এক মা নিজের জীবনের কথা না ভেবে প্রথমে সন্তানকে নিরাপদে বের করে দেন। এটাই মা—নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অপূর্ব প্রতীক। সন্তানের জন্য মায়েরা নিজেদের সবকিছু ত্যাগ করতে পারেন, এমনকি পুরো পৃথিবীও।

মায়ের এই আত্মত্যাগ নতুন কিছু নয়; ইতিহাস ও ধর্মীয় বর্ণনাতেও এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

হযরত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন, এক দরিদ্র মহিলা তার দুই কন্যাকে কোলে করে তার কাছে এলো। তিনি তাকে তিনটি খেজুর দিলেন। মহিলাটি দুটি খেজুর তার দুই কন্যাকে দিলেন এবং একটি নিজে খাওয়ার জন্য তুললেন। কিন্তু কন্যা দু’টি সেটিও চাইলে, তিনি নিজের জন্য রাখা খেজুরটি দুই ভাগ করে তাদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।

হযরত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, এই দৃশ্য তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। পরে তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বলেন,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই কাজের বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন অথবা তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন।” (সহিহ মুসলিম: ৬৮৬৩)

মায়ের ভালোবাসা এমনই—নিঃস্বার্থ, সীমাহীন এবং জান্নাতের সুবাসে ভরা।

মন্তব্য করুন: