যে গুণ মানুষকে প্রকৃত ধনী করে, জানালেন মসজিদে নববীর খতিব
আল-মাওতিন
মানুষের প্রকৃত সম্পদ শুধু অর্থ-বিত্ত নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকাই প্রকৃত সমৃদ্ধি। কানাআত বা অল্পেতুষ্টি মানুষের অন্তরে প্রশান্তি ও সুখ এনে দেয়। মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-বুজাইয়ান জুমার খুতবায় এসব কথা বলেন।
তিনি মুসল্লিদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাকওয়া মানুষের কঠিন বিষয়গুলো সহজ করে, গুনাহ মোচনের কারণ হয় এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদান বাড়িয়ে দেয়।
খুতবায় শায়খ আল-বুজাইয়ান বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের মধ্যে রিজিক বণ্টন করেছেন। তাদের আয়ু, জীবনযাপন ও অবস্থার মধ্যেও পার্থক্য রেখেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত বণ্টনে সন্তুষ্ট থাকে, তার অন্তর প্রশান্ত হয় এবং আত্মা স্বস্তি লাভ করে।
অন্যদিকে, যে ব্যক্তি সবসময় অন্যের হাতে থাকা সম্পদের দিকে তাকিয়ে থাকে, তার মধ্যে অসন্তোষ ও লোভ তৈরি হয়। ফলে তার সম্পদ যত বেশি হোক না কেন, অন্তর থেকে সে দরিদ্রই থেকে যায়।
মসজিদে নববীর খতিব বলেন, আসমান-জমিন সৃষ্টির আগেই আল্লাহ তায়ালা মানুষের আয়ু ও রিজিক নির্ধারণ করে রেখেছেন। তাই আল্লাহর ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি বৈধ উপায়ে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, কানাআত মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এটি প্রকৃত সমৃদ্ধি, যা মানুষকে সুখী করে। কানাআতের অর্থ হলো, আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা, অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ না করা এবং নিজের কাছে থাকা নিয়ামতকে মূল্যায়ন করা।
এ সময় তিনি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকো; তাহলে মানুষের মধ্যে তুমিই সবচেয়ে ধনী হবে।”
শায়খ আল-বুজাইয়ান আরও বলেন, কানাআত মানে কাজ ছেড়ে দেওয়া, রিজিকের সন্ধান বন্ধ করা কিংবা উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করা নয়। বরং এটি হলো চেষ্টা করা, বৈধ উপায় অবলম্বন করা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা।
ধনী-গরিব উভয়েই পরীক্ষিত
দ্বিতীয় খুতবায় তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের ভালো ও মন্দ—উভয় অবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। দরিদ্র ব্যক্তি তার দারিদ্র্য দিয়ে পরীক্ষিত হয়, আর ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ দিয়ে পরীক্ষিত হয়।
তিনি বলেন, মানুষের রিজিক ও অবস্থার মধ্যে পার্থক্যের পেছনেও আল্লাহর হিকমত রয়েছে। পৃথিবীর জীবনব্যবস্থা পরিচালিত হওয়া এবং মানুষে মানুষে পারস্পরিক প্রয়োজন ও উপকারের জন্যই এ পার্থক্য।
খতিব দরিদ্র, অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজেদের পাওয়া নিয়ামত অহংকার বা প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রকাশ না করার পরামর্শ দেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্পদ ও নিয়ামতের অতিরিক্ত প্রদর্শন কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে যেন অভাবী মানুষের মনে কষ্ট বা বঞ্চনার অনুভূতি সৃষ্টি না হয়। কিছু নিয়ামতের শোকর আদায়ের একটি দিক হলো, তা গোপন রাখা।
সূত্র: আল-মাওতিন, সৌদি আরব
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: