যার হাতে ধ্বংস হবে পবিত্র কাবা, থাকবে না কোনো বাধাদানকারী ঈমানদার
মুসলমানদের কাছে কাবা শরীফ শুধু একটি স্থাপনা নয়। এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান নামাজে কাবার দিকে মুখ করেন। হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা এই পবিত্র ঘরকে ঘিরেই তাওয়াফ করেন। তবে হাদিসে এসেছে, একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, যখন কাবাঘর ধ্বংস হয়ে যাবে। কে ধ্বংস করবে এই পবিত্র ঘর? কী বলা হয়েছে হাদিসে?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন, একসময় আসবে যখন এই পবিত্র ঘর ধ্বংস হয়ে যাবে। আর সেই সময়ই হবে কিয়ামতের ভয়াবহ পূর্ব লক্ষণগুলোর একটি।
সহীহ বুখারীর হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কাবাঘর ধ্বংস হবে, তখন কিয়ামত খুব কাছাকাছি চলে আসবে। অর্থাৎ কিয়ামতের বড় আলামতগুলো যেমন ইমাম মাহাদীর আগমন, দাজ্জালের আবির্ভাব, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন, ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা এসব ঘটনার পরেই কাবা ধ্বংসের মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯০১)
এ সময় ধর্ম থাকবে কেবল নামমাত্র। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম ভয়াল সেই সময়ের চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, তখন ইসলাম থাকবে কেবল নামেই। কোরআনের অক্ষর থাকবে, কিন্তু মানুষ তাতে আমল করবে না।(সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০৪৯)
আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, এক রাতে হঠাৎ কোরআন পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে। তখন কোনো আয়াত মানুষের মুখে কিংবা কিতাবে অবশিষ্ট থাকবে না। অর্থাৎ দুনিয়া থেকে ইসলামের আলো নিভে যাবে। পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে যাবে।(সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০৪৯, কিতাবুল ফিতান, অধ্যায় “কোরআন ও জ্ঞান বিলুপ্ত হওয়া”)
মানুষ কাবাকে আর আল্লাহর ঘর হিসেবে নয়, বরং কেবল একটি প্রাচীন স্থাপত্য হিসেবে দেখবে। হজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাওয়াফ থেমে যাবে এবং মক্কা-মদিনা জনশূন্য হয়ে পড়বে।(সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৮৯)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন, মদিনা তার অধিবাসীদের মধ্যে থাকা মন্দ লোকদের বের করে দেবে। আর সেখানে থাকবে শুধু পশুপাখি। অর্থাৎ ভালো মানুষ বা ঈমানদার কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। ইসলামের প্রভাব তখন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবে পৃথিবী থেকে।
আর এরপরেই ঘটবে সেই ভয়াবহ দৃশ্য। হাদিসে এসেছে, একজন আবিসিনিয়ান অর্থাৎ ইথিওপিয়ান ব্যক্তির হাতে ধ্বংস হবে কাবাঘর। যার নাম হবে জুসুয়া কাতাইন। সে হবে কালো। তার পা হবে পাতলা বিশিষ্ট। ওই ব্যক্তি আফ্রিকার দিক থেকে আগত কালো বর্ণের হবে। সে একে একে কাবার ইট, পাথর ও অলংকার খুলে ফেলবে। যেন এই ঘরটি কখনো ছিলই না। তখন তাকে থামানোর মতো কোনো ঈমানদার মুসলমান থাকবে না।(সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯০৯)
ইতিহাসে কাবাঘর একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু কখনো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি। ইবনে জুবায়ের ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের যুদ্ধের সময় ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে কাবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আব্বাসীয় যুগে আগুন ও বন্যায় আংশিক ধ্বংস হয়। কিন্তু প্রতিবারই মুসলমানদের ঐক্য ও ভালোবাসায় তা পুনর্নির্মিত হয়েছে। তবে শেষ জামানায় এর ধ্বংস হবে চূড়ান্ত। তখন আর কেউ পুনর্নির্মাণের শক্তি বা ঈমান রাখবে না।
কাবার ধ্বংস কিয়ামতের শেষ সূচকগুলোর একটি। এর পরপরই ঘটবে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। মানুষের হৃদয় থেকে শান্তি বিলীন হবে। সূর্য পশ্চিম থেকে উঠবে এবং পৃথিবীতে ধ্বনিত হবে কিয়ামতের চূড়ান্ত আহ্বান।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: