• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

নূহ (আ.)-এর নৌকার খোঁজে পাহাড় খনন, অবাক বিজ্ঞানীরা

প্রকাশিত: ১৬:২৫, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নূহ (আ.)-এর নৌকার খোঁজে পাহাড় খনন, অবাক বিজ্ঞানীরা

ছবি: নোয়া’স আর্ক স্ক্যানস

নূহ (আ.)-এর সেই নৌকা কি সত্যিই এখনো মাটির নিচে রয়েছে? যুগের পর যুগ ধরে এই প্রশ্ন ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এবার তুরস্কের একটি নৌকা আকৃতির ভূ-গঠনকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান। ভূগর্ভস্থ রাডার স্ক্যান, ড্রিলিং ও মাটির নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে রহস্যময় এই স্থানের প্রকৃত ইতিহাস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় আগরি প্রদেশে অবস্থিত দুরুপিনার ফরমেশন দীর্ঘদিন ধরেই নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে আলোচিত। দূর থেকে দেখলে জায়গাটির আকৃতি অনেকটা বিশাল একটি নৌকার মতো। এ কারণেই কয়েক দশক ধরে প্রত্নতাত্ত্বিক, ভূতাত্ত্বিক ও গবেষকদের মধ্যে স্থানটি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

১৯৫৯ সালে তুরস্কের মানচিত্রবিদ ইলহান দুরুপিনার আকাশ থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে এই অস্বাভাবিক নৌকা আকৃতির গঠন শনাক্ত করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে সেখানে অনুসন্ধান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত এটিকে নূহ (আ.)-এর নৌকা হিসেবে নিশ্চিত করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক গবেষণায় ভূগর্ভস্থ রাডার ব্যবহার করে ফরমেশনের নিচে কিছু অস্বাভাবিক কাঠামোর সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ক্যানে কিছু ফাঁপা স্থান ও কক্ষের মতো আকৃতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব তথ্য কতটা বাস্তব এবং এগুলোর প্রকৃতি কী তা জানতে আরও ড্রিলিং ও নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ। ফরমেশনের ভেতর ও বাইরের মাটির নমুনার মধ্যে জৈব পদার্থ, পটাশিয়াম ও পিএইচ মাত্রায় পার্থক্য পাওয়া গেছে বলে গবেষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই পার্থক্যগুলো কি কোনো প্রাচীন মানবনির্মিত কাঠামোর অস্তিত্বের ইঙ্গিত, নাকি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল? এখন পর্যন্ত যার কোনো চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যায়নি।

গবেষকরা আরও গভীরভাবে ড্রিলিং করে মাটির নমুনা সংগ্রহ এবং সেগুলো পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ কাঠামোর প্রকৃতি বোঝার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

দুরুপিনার ফরমেশনকে নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম কারণ এর অস্বাভাবিক নৌকা আকৃতি। বাইবেলে বর্ণিত নূহের নৌকার পরিমাপের সঙ্গে এই ভূ-গঠনের আকারের কিছুটা মিল রয়েছে বলেও অনুসন্ধানকারীরা দাবি করেন। তবে শুধু আকৃতিগত মিলের ভিত্তিতে কোনো স্থাপনাকে নূহ (আ.)-এর নৌকা হিসেবে চিহ্নিত করা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

নূহ (আ.)-এর নৌকার ঘটনা ইসলামী ঐতিহ্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে মহাপ্লাবনের সময় নূহ (আ.)-এর নৌকা এবং তাঁর সম্প্রদায়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তবে কোরআনে নৌকাটি বর্তমান তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশনে অবস্থান করেছিল—এমন কোনো উল্লেখ নেই।

ফলে তুরস্কের এই স্থানে চলমান গবেষণার ফলাফল নিয়ে আগ্রহ থাকলেও এখনই এটিকে “নূহ (আ.)-এর নৌকা পাওয়া গেছে” বলে দাবি করার সুযোগ নেই। বরং গবেষণার মাধ্যমে রহস্যময় এই ভূ-গঠনের প্রকৃত পরিচয় বেরিয়ে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

গবেষণার ফলাফল যদি ভবিষ্যতে নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই স্থানের কোনো সম্পর্কের শক্ত প্রমাণ হাজির করে, তাহলে তা ধর্মীয় ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে সেই প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত দুরুপিনার ফরমেশনকে নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য স্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন: